ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

জমে ওঠেনি ছুরি-চাপাতি বিক্রি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১১ জুন, ২০২৪ ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


জমে ওঠেনি ছুরি-চাপাতি বিক্রি

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র বাকি ছয়দিন। কোরবানির ঈদ ঘিরে এরই মধ্যে জমে ওঠেছে পশুর হাটগুলো।

পছন্দের পশুটি কিনতে প্রতিদিন হাটে যাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে কামারপাড়ায়। পশু কোরবানির অন্যতম উপকরণ ছুরি-চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরিতে কামাররা ব্যস্ত সময় পার করলেও দেখা নেই প্রত্যাশিত ক্রেতার। সাধারণ সময়ের তুলনায় বেচা-বিক্রি কিছুটা বাড়লেও এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি ছুরি-চাপাতির হাট।

 

সোমবার (১০ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কামারপট্টি ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির ঈদ ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কামাররা। টুং, টাং শব্দে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত তপ্ত লোহা পিটিয়ে ছুরি, চাপাতি, দা, বটি, কুড়াল, জবাই ছুরি, রেতসহ বিভিন্ন ধারালো যন্ত্রপাতি তৈরি করছেন তারা। প্রায় ১২টি কামার ঘরেই চলছে এমন কর্মযজ্ঞ। এ কামারঘরগুলো ঘিরে সামনে রয়েছে আরও ২৫টির মতো দোকান। সেসব দোকানে ক্রেতাদের জন্য থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। কিছুক্ষণ পর পর ক্রেতারা এসে প্রয়োজনীয় ছুরি-চাপাতি দেখছেন, যাচাই-বাছাই করে কিনছেনও। তবে তা প্রত্যাশিত নয় বলে দাবি বিক্রেতাদের।

তারা বলছেন, সাধারণ সময়ের তুলনায় বেচা-কেনা কিছুটা বেড়েছে। তবে কোরবানির ঈদ ঘিরে এখনও প্রত্যাশিত ক্রেতা আসছে না। ফলে বেচা-কেনাও নেই। আরও দুদিন পর থেকে কেনা-বেচা পুরোপুরি জমে ওঠবে বলে প্রত্যাশা তাদের।  

রাকিব নামে এক বিক্রেতা বলেন, বেচা-কেনা একেবারেই নেই। সকাল থেকে ৫০০ টাকারও কিছু বিক্রি করতে পারিনি। তবে ঈদ যত এগিয়ে আসবে তত ক্রেতা বাড়বে। তখন ভালো বেচা-কেনা হবে বলে আশা করি।

তবে বেচা-বিক্রি কম হওয়ার পেছনে লোহা ও এসব যন্ত্রপাতির দাম বাড়াকেও কারণ হিসেবে দেখছেন বিক্রেতারা। আব্দুল লতিফ নামে এক বিক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিটি সরঞ্জামের দাম ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে। লোহা, কয়লা, কামারের মজুরি বাড়ার কারণেই ছুরি-চাপাতির দাম বেশি। যে কারণে অনেকে গত বছরের ছুরি-চাপাতি শান (ধার) দিয়ে এ বছর ব্যবহার করছেন। যাদের একেবারেই প্রয়োজন তারা কিনতে আসছেন।

জনতা ট্রেডার্স অ্যান্ড নোয়াখালী হার্ডওয়্যারের বিক্রেতা মানিক বলেন, রোজার ঈদের পর থেকেই তারা কোরবানির ঈদের জন্য ছুরি-চাপাতি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রতিদিন কামাররা ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করে ক্রেতার চাহিদামতো ছুরি-চাপাতি তৈরি করেন। একই জিনিস বিভিন্ন ধরনের লোহা দিয়ে তৈরি করা হয়। তাই দামের পার্থক্য হয়। কোনোটা বেশি, কোনোটা কম। রেতের জবাই ছুরি আর গাড়ির পাতির (লোহা) ছুরি এক নয়। দামও ভিন্ন। ক্রেতাদের দেখে-শুনে সেগুলো কিনতে হবে।

বিক্রেতারা জানান, এ বছর মান ভেদে ৬০০-৮০০ টাকা দরে প্রতিকেজি চাপাতি, দামা, বটি বিক্রি হচ্ছে। অনেক সরঞ্জাম বিক্রি হচ্ছে পিস হিসেবে। তার মধ্যে ছোট ছুরি ১৫০-৩০০ টাকা, কুড়াল ৭০০-৮০০ টাকা, জবাই ছুরি ৬০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


   আরও সংবাদ