স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার
২০০৫ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের বীরত্বে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রূপকথা লিখেছিল বাংলাদেশ। সেটিই এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয়।
এরপর কিংবা তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আর কখনোই জয়ের গল্প লিখতে পারেনি বাংলাদেশের ছেলেরা। ঘরের মাঠ, বিদেশ কিংবা বৈশ্বিক আসর—সব জায়গাতেই দাপট দেখিয়েছে অজিরা।
২০১১ সালে সর্বশেষ ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবার সেই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শিবিরে।
বিশেষ করে দলে থাকা কোনো ক্রিকেটারই সেই সর্বশেষ সিরিজের অংশ ছিলেন না। ফলে নতুন এক অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ রোমাঞ্চ লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনেক বছর পর সিরিজ খেলছি। এটা আমাদের জন্য বড় একটি সুযোগ। সবাই ভালো ছন্দে আছে, ব্যাটসম্যান ও বোলাররা আত্মবিশ্বাসী। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে আমাদের জন্য দারুণ কিছু করার সুযোগ থাকবে।’
ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সিরিজে ভালো কিছু করার প্রত্যাশাও কথা শোনালেন মিরাজ, ‘আমাদের পরিকল্পনা খুবই সহজ—ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এবং ম্যাচ জিততে হবে।’
মিরপুরের উইকেট বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উইকেটে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলারদের জন্যও সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এবারও উইকেটে কিছুটা ঘাস থাকায় নিউজিল্যান্ড সিরিজের মতো কন্ডিশন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উইকেট নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘অনেকের ধারণা, মিরপুর মানেই স্পিননির্ভর বা কঠিন উইকেট। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখানে ভালো ক্রিকেট উইকেটও তৈরি করা সম্ভব। আমরা সেটাই দেখতে চাই। ভালো উইকেটে খেললে ব্যাটসম্যান ও বোলার—দুই বিভাগেরই আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সামনে বড় টুর্নামেন্ট আছে, তাই এই প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।’
অস্ট্রেলিয়া দলে শেষ মুহূর্তে ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মিরাজ। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়া এখনও শক্তিশালী দল, ‘আমরা আগেই শুনেছিলাম তারা নাও থাকতে পারে, পরে নিশ্চিত হয়েছি। তবে অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই শক্তিশালী দল। আমরা প্রতিপক্ষের অনুপস্থিত খেলোয়াড় নিয়ে বেশি ভাবছি না। আমাদের লক্ষ্য নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।’
নিজের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গেও খোলামেলা মন্তব্য করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে রান না পাওয়ায় সমালোচনা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি, ‘ভালো না করলে সমালোচনা হবেই—এটা আমরা মেনে নিই। তবে শেষ কয়েকটি সিরিজে আমরা দল হিসেবে ভালো ফল করেছি। সামনে বিশ্বকাপ আছে, তাই এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘দল আমার কাছ থেকে ব্যাটিংয়ে অবদান আশা করে, আমিও সেটা অনুভব করি। আমি আমার ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেছি, ঢাকা লিগেও খেলেছি। এখন নিজেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। বড় ইনিংসের চেয়ে ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’