আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:১৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাসের নতুন একটি বিশাল মজুতের সন্ধান পেয়েছে দেশটি। এর মধ্যে প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য বলে জানিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।
রোববার (২৩ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের তেলমন্ত্রী বলেন, নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের ফলে দেশের জাতীয় জ্বালানি ভান্ডারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ যুক্ত হয়েছে।
নতুন গ্যাসক্ষেত্র শনাক্ত ও উন্নয়নে ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও প্রচেষ্টার ফলেই এ আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে।
পাকনেজাদ জানান, নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি ধাপের প্রায় ১৫ বছরের চাহিদার সমান।
তিনি বলেন, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাস ‘মিষ্টি গ্যাস’ বা কম সালফারযুক্ত। ফলে এটি উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে তুলনামূলক কম ব্যয় হবে।
এতে গ্যাসক্ষেত্রটির উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ও কম রাখা সম্ভব হতে পারে।
নতুন গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে বলে জানান ইরানের তেলমন্ত্রী। গ্যাসের পাশাপাশি উচ্চ বাণিজ্যিক মূল্যসম্পন্ন এই তরল হাইড্রোকার্বনও ইরানের জন্য বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করবে। সব মিলিয়ে নতুন এই আবিষ্কার দেশটির জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের সম্পদ সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের খবর সামনে এলো। গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর মাধ্যমে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান এবং চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা কার্যত থমকে রয়েছে।