ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৫ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:২৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার


গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি জানান, শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখা, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে সংকট কাটিয়ে একটি ভালো অবস্থায় যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

 

তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর সেটি মেরামত করা হয়েছে।

তবে এলএনজি কার্গো সরবরাহে কিছু সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে।

 

তিনি বলেন, শিল্প উৎপাদন ও কারখানা সচল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বকেয়া বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, শিল্পকারখানার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় করতে এবং গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে দ্রুত গ্যাস যুক্ত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোলার গ্যাস কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে আনা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা ছিল। পাইপলাইনসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হলেও এখন দ্রুত গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতেও বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের স্থলভাগে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চলমান সংকট একদিনে তৈরি হয়নি; এটি বহু বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার ফল। তবে সরকার জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংকট কাটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়ার কথাও তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গত বছরের একই সময়ে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং ইউরোপের বাড়তি চাহিদার কারণে এলএনজির বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। শীতকে সামনে রেখে ইউরোপের দেশগুলোও তাদের গ্যাসের মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তিনি বলেন, সংকট কাটিয়ে একটি ভালো অবস্থায় যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে, এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বরং ধীরে ধীরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সরকার।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।


   আরও সংবাদ