ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৫ বার
দেশে সম্প্রতি হাম রোগে আক্রান্তের মধ্যে বয়স্কদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। ৩৫ বছর বয়সী এক চিকিৎসক হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এছাড়াও বয়স্ক অনেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বয়স্কদের মধ্যে হাম শনাক্ত হলেও এ নিয়ে আতঙ্কের তেমন কারণ নেই। জটিলতা না হলে প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠবেন তারা।
যদি রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন বা শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
এদিকে, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
হাসপাতালের পুরাতন ভবনে তিনটি কেবিন হাম রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেখানে কয়েকজন আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা চলছে। এছাড়া জরুরি বিভাগে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেবা (ওসেক) আইসিইউ বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য পুরাতন ভবনে তিনটি কেবিন বরাদ্দ রেখে কিছু হাম শিশু রোগীর চিকিৎসার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়াও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী হাসপাতালে আসছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এই হাসপাতালের ১০ জন চিকিৎসক ডিএনসিসি হাসপাতালে গিয়ে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আরও চিকিৎসক পাঠানো হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেবা (ওসেক) হাম রোগীদের জন্য আইসিইউর বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই রোগে শুধু শিশুরা নয়, বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এক চিকিৎসক, যার বয়স হবে ৩৫ বছর, হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের নতুন ভবনের কেবিনে কয়েকদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। পাশাপাশি অপর একজন, যার বয়স হবে ৬৮ বছর, তিনিও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া শিশুদের পরে টিনএজাররা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, রাজধানীতে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে বেশ কয়েকজন বয়স্ক রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, বয়স্ক অনেকে শৈশবে টিকা নেওয়ায় সাধারণত আতঙ্কের কিছু নেই। তবে তাদের হামে আক্রান্ত হওয়ার পর যদি নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেই অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। গায়ে প্রচণ্ড জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশিরভাগ শূন্য থেকে এক বছর ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা।
হাম আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে ফুসকুড়ি বা হামের দাগ বের হওয়ার ৪ দিন আগে থেকে শুরু করে পরবর্তী ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্তের হাঁচি-কাশি থেকে জীবাণু ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে সক্রিয় থাকতে পারে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো সবশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবারের (১৮ এপ্রিল) প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৯৪২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগী পাওয়া গেছে ৮৬ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা মোট ৩ হাজার ২৭৮ জন এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৪০৯ জন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১১ হাজার ৭৫১ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে এবং সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।