ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সৌরবিদ্যুতে সাশ্রয় ১৩০ মিলিয়ন ডলার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার


সৌরবিদ্যুতে সাশ্রয় ১৩০ মিলিয়ন ডলার!

২০০৬ সালের ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটে, সঙ্গে ছিল ৬৫ শতাংশ আর্দ্রতা। প্রচণ্ড গরমে নিউ ইংল্যান্ডের বাসিন্দারা রেকর্ড পরিমাণে এয়ার কন্ডিশনার ও বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করেন, ফলে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিডে সর্বকালের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার রেকর্ড গড়ে ওঠে।

 

ঐতিহাসিকভাবে, নিউ ইংল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খুচরা বিদ্যুতের দাম ছিল অন্যতম বেশি। তবে প্রায় দুই বছর পর, ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে অঞ্চলটি ছাদের ওপর সৌর প্যানেল স্থাপনে বড় পরিসরে বিনিয়োগ শুরু করে।

 

সৌর প্যানেলের যন্ত্রাংশের দাম দ্রুত কমে আসা, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আগ্রাসী নীতিগত উদ্যোগ এবং উচ্চ বিদ্যুৎমূল্যের কারণে অসংখ্য বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়। বহু বছর আগে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের সুফল এখন স্পষ্টভাবে পাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

 

টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অ্যাকাডিয়া সেন্টারের (Acadia Center) নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত নিউ ইংল্যান্ডে চলা তাপপ্রবাহের সময় ছাদভিত্তিক ও অন্যান্য বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ৬ গিগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪৯ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছেন।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু ২ জুলাই একদিনেই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে ৩৯ থেকে ৫৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়েছে। ওই দিনের বিকেলে সৌরবিদ্যুৎ নিউ ইংল্যান্ডের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করেছিল।

অ্যাকাডিয়া সেন্টারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ অঞ্চলটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ পূরণ করেছে।

অ্যাকাডিয়া সেন্টারের জলবায়ু ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ পরিচালক জেমি ডিকারসন বলেন, “গ্রিড এই বিদ্যুৎ সহজেই গ্রহণ করে। ফলে ওই সময়ে অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে জ্বালানি পোড়াতে হয় না। এতে অন্য উৎস থেকে ব্যয়বহুল জ্বালানি কিনতে না হওয়ায় গ্রাহকদের অর্থ সাশ্রয় হয়।”

তিনি বলেন, “২ জুলাই সবচেয়ে গরম দিনে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ অঞ্চলটির জ্বালানি মিশ্রণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর চেয়েও বেশি অবদান রেখেছে। মূলত ওই দিন দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের ২৮ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত সৌরবিদ্যুতের কারণে এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”

ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যা অনেক সময় ‘বিহাইন্ড দ্য মিটার’ উৎপাদন নামে পরিচিত, প্রথমে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে। অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্থানীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়, যা আশপাশের ভবনের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।

ডিকারসন বলেন, “বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্থানের কাছাকাছি উৎপাদিত হয়। ফলে এটি আঞ্চলিক গ্রিডের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা কার্যকরভাবে কমিয়ে দেয়।”

আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইএসও-নিউ ইংল্যান্ড (ISO-New England) জানিয়েছে, স্বাভাবিক আবহাওয়ায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গ্রিডের চাহিদা ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটেরও বেশি কমাতে সক্ষম।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিকেল ৪টা থেকে সরে এখন সন্ধ্যার শুরুর দিকে চলে গেছে।

ডিকারসনের মতে, সৌরবিদ্যুতের অর্থনৈতিক সুবিধার এটি একটি স্পষ্ট উদাহরণ। সৌরবিদ্যুতের সুফল শুধু তাপপ্রবাহের সময়েই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাকাডিয়া সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌরবিদ্যুৎ নিউ ইংল্যান্ডে ১ দশমিক ২৬ থেকে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় করেছে।

ডিকারসন বলেন, “এগুলো এমন সম্পদ, যেগুলোতে আমরা বহু আগে বিনিয়োগ করেছি এবং গরমের মৌসুম বা এল নিনো প্রভাবের সময় এগুলো গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। সারা বছরই সাশ্রয় হবে, তবে উচ্চ তাপমাত্রার গ্রীষ্মে এর সুফল সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে।”


   আরও সংবাদ