স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৫ বার
লিয়াকত হোসাইন লায়ন,জামালপুর প্রতিনিধি।।
জামালপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, গাছ কেটে গৃহবধূকে মারধর,বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের প্রতিবাদে ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জামালপুর দয়াময়ী এলাকায় একটি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জামালপুর সদরের লক্ষীরচর ইউনিয়নের চরগজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ভূক্তভোগী দম্পত্তি আজাহার আলী ও আকলিমা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন,জমি ক্রয় করে সেখানে বসতভিটা নির্মাণ করে পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে ৯০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট উঁচু ইটের তৈরি সীমানা প্রাচীর গড়ে তুলে বসবাস শুরু করু। "আমরা বসতভিটায় বসবাস শুরু করার পর থেকেই এলাকার চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও প্রভাবশালী আমার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা মো. ওমর আলী, মো. জসিম উদ্দিন, মোঃ ওয়াহিম উদ্দিন ও মো. শান্ত মিয়াসহ তাদের সহযোগীরা আমাদের নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। আমরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের ভিটাচ্যুত করার এবং প্রাননাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে লক্ষীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিস দরবার করে আমাদের শান্তিতে বসবাসের সিদ্ধান্ত দেন এবং অভিযুক্তদের বাধা দিতে নিষেধ করেন।
পরবর্তীতে বিবাদীরা স্থানীয় সালিসের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করে হঠাৎ বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং ৪টি বাড়ির আঙিনায় প্রায় ১৫টি বড় গাছ কেটে ফেলে। ওই সময় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এ কল করা হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে।
কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই বিবাদীরা হিংস্র হয়ে ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী মোছা. আকলিমা খাতুনকে চুলের মুঠি ধরে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করে জামা কাপড় ছিঁড়ে লাঞ্ছিত করেন।
গত ২০ জুলাই রাতে অভিযুক্তরা সশস্ত্র অবস্থায় বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৯০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট উঁচু পুরো সীমানা প্রাচীরটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
সংবাদ সম্মেলন আকলিমা বেগম বলেন, "চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে আমার পরিবার এখন চরম প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমি জামালপুর কোর্টে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করি,যাতে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
উল্লেখ্য যে বলেন, গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দলিল নং- ৩৯৩৮ মূলে তিনি চরগজারিয়া মৌজায় বিআরএস ৮৬৩ ও ৭৬৪ খতিয়ানের ৩৭৫৮ ও ৩৭৫৯ দাগে ৩ এবং ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমিটি সরকারিভাবে নামজারি খারিজ (খতিয়ান নং ২৫-১৪৫৫) সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।