ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট বন্ধ ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার


 কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট বন্ধ ঘোষণা

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা নিরাপদ সীমায় পৌঁছায় চালুর ৪ দিন ১১ ঘন্টা ৪০ মিনিট পর বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিনগত রাতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

এর আগে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় উজানে বন্যা দেখা দেয়। 

এতে গেল শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে  কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের ১৬ জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে  দিয়ে সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল।

 

এখন বৃষ্টিপাত কমে আসায় পানির উচ্চতা নিরাপদ সীমায় নেমে আসায় স্পিলওয়ের এসব জলকপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাঁধ কর্তৃপক্ষ।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টায় হ্রদের পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১০৩ দশমিক ৩১ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)।

১০৯ ফুট এমএসএল ধারণক্ষম কাপ্তাই বাঁধের বিপদসীমা ধরা হয় ১০৮ দশমিক ৫০ ফুট এমএসএল। পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু থাকায় প্রতি সেকেন্ডে ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে অপসারণ হচ্ছে।

আর এতে উৎপাদিত ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে।

 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্হাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানির স্তর আবার বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য, কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য তৈরি হয় কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। ১৯৫৬ সালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয় এবং এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৬২ সালে।

এই বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পিলওয়ে রয়েছে। এই স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক ফিট পানি বয়ে যেতে পারে। শুরুর দিকে এর ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু আছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।


   আরও সংবাদ