আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০২৬ ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার
অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও এক হাজার ৮০০ জন অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্য বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা ভারত সরকারের আইন কার্যকর করেছি।
যারা প্রকৃত ভারতীয়, তাদের কোনও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, কোনও সমস্যা হবে না।
কিন্তু যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীদের কোনওভাবেই এখানে রাখা যাবে না।
তারা আমাদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবে, এটাও কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না।
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বের করা হয়েছে। রাজ্যের ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও এক হাজার ৮০০ জন অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের ওপারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এখানে কেউ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য এই বিষয়টি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কেন তৎকালীন সরকার বিএসএফকে জমি দেয়নি? উল্টে প্রশাসনিক দপ্তরে বসে বিএসএফের বদনাম করা হয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, আমরা এখনও পর্যন্ত ১৪২.৭৯ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ৬০০ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব অনুপ্রবেশকারী এখনও ভারতে রয়েছেন, তারা কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার আগে পালাতে চাইলে পালিয়ে যান। হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে অনেকেই পালিয়েছে।
বাংলার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং বাংলাকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারের নীতি একেবারে পরিষ্কার। এই বিষয়ে যারা আঙুল তুলবেন, তাদের যে ভাষায় বোঝানো দরকার, সেই ভাষাতেই উত্তর দেওয়া হবে।
কলকাতার পার্ক সার্কাস সংলগ্ন বেনিয়াপুকুর এলাকার ‘সোহরাওয়ার্দি এভিনিউ’-এর নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যখন পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করি, তখন দেখতাম সোহরাওয়ার্দি এভিনিউ লেখা রয়েছে। এ রাজ্যে সোহরাওয়ার্দির নাম থাকবে না। এই কলকাতায় মোগল, পাঠানদের নামও থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস, নোয়াখালীর দাঙ্গা এবং অত্যাচারী ব্রিটিশদের সঙ্গে যুক্ত নাম রাখার ক্ষেত্রে পাঁচবার ভাবতে হবে। তবে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবদুল কালামের মতো প্রকৃত দেশপ্রেমীদের সম্মান দেওয়া হবে।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা মুসলমানদের ভুল পথে পরিচালিত করেছেন। স্কুল-কলেজে না পাঠিয়ে কেন খারিজি মাদ্রাসায় পাঠাবেন? কেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করবেন না?
দুর্নীতি ইস্যুতেও কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, তোলাবাজ, দুর্নীতিবাজ একজনও জেলের বাইরে থাকবে না।
সবশেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোনও আপস করবে না।