ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ অগাস্ট, ২০২৬ ১৩:৪০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
মৌলভীবাজারে লোডশেডিংয়ের কারণে ট্রাফ হাউজে ওয়েদারিং বা প্রক্রিয়াজাত করতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা। এতে প্রতিদিন জেলার প্রতিটি বাগানে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মেলে ১৫ ঘণ্টা। বাকি ৯ ঘণ্টা কারখানার জেনারেটর সচল রাখতে ব্যবহার করতে হচ্ছে জ্বালানি তেল।
এতে জেলার ৯২টি চা বাগানে চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে নেমে এসেছে বিপর্যয়। উৎপাদন খরচ বাড়লেও, চায়ের গুণগতমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাগান সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, দীর্ঘ সময় কাঁচা চা পাতা ট্রাফ হাউজে রাখা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় পাতা নষ্ট হচ্ছে।
প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি পাতা ফেলে দিচ্ছেন তারা। তাদের অভিযোগ, এভাবে লোডশেডিং হতে থাকলে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি চা শিল্পে বড় ধরনের ধস নামবে। লোকসানে পড়বে মালিকপক্ষ।
ইটা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক আকাশ হোসেন বলেন, একবার বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প প্রযুক্তিতে কারখানা চালু করতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। এতে সময়ের অপচয় হয়। আবার পাতার গুণগত মানও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক রামগোপাল গৌড় বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যন্ত্রপাতিরও অনেক ক্ষতি হয়। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এসময় কারখানা চালু রাখতে ১০০ থেকে ২০০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করতে হয়।
একই চা বাগানের প্রধান কারখানা করণিক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে কারখানা অচল হয়ে পড়ে। এসময় ট্রাফ হাউজে রাখা কাঁচাপাতার ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রতিদিন মৌলভীবাজারের বাগানগুলোতে হাজার হাজার কেজি পাতা নষ্ট হচ্ছে। এগুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
রাজনগর উপজেলার করিমপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদ বলেন, সবুজ চা হচ্ছে শিল্পের স্পর্শকাতর উপকরণ। একে যথাযথ সময়ে ম্যানুফ্যাকচারিং পর্যায়ে নিতে না পারলে ক্ষতির শঙ্কা বেড়ে যায়। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়লে খরচ বাড়ে, সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে পাতার মান রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিনই ভুগতে হচ্ছে। এতে চা পাতার অনেক ক্ষতি হয়। প্রতিদিনই আমাদের চা পাতা নষ্ট হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। তবে কম সময়ের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।