ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রাখাইনের যুদ্ধে ঝুলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৫ অগাস্ট, ২০২৬ ১০:০৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


রাখাইনের যুদ্ধে ঝুলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

এক, দুই, তিন করে রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

এরপর কেটে গেছে প্রায় এক দশক। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে।

 

আন্তর্জাতিক চাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরও প্রত্যাবাসনে কোনো সুরাহা হয়নি। আর এখন নতুন করে সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির সশস্ত্র লড়াই।

 

বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে কার কাছে? মিয়ানমার সরকারের কাছে, নাকি রাখাইনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির সঙ্গে সমঝোতা করে? এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রাখাইনে নেপিডোর নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে

অতীতে একসময় পুরো রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

কিন্তু ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে আরাকান আর্মির সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক বাহিনী বড় ধরনের চাপে পড়ে। আরাকান আর্মি নিজেদের ‘আরাকান জনগণের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের’ দাবিদার হিসেবে তুলে ধরে। তারা এখন রাখাইনে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় রাখাইনে দুই ধরনের ক্ষমতার কাঠামো তৈরি হয়েছে। প্রথমটি হলো নেপিডোর সামরিক সরকারের আনুষ্ঠানিক সার্বভৌমত্ব। আর দ্বিতীয়টি হলো আরাকান আর্মির মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ। এই দ্বৈত বাস্তবতা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরাকান আর্মির অবস্থান

আরাকান আর্মি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গা সংকটকে তারা রাখাইনের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমস্যার অংশ হিসেবে দেখে। তারা মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাখাইনের জনগণের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরেছে। তবে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরাকান আর্মির ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, সংঘাতের সময় রোহিঙ্গা ও বেসামরিক মানুষ উভয় পক্ষের সহিংসতার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, চলাচল ও মানবিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে অবশ্য রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা নিজেদের রাখাইনের সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার পক্ষে শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে।

রাখাইনের পরিবেশ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত?

রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা, মানবিক সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যমান।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন হচ্ছে, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নাগরিকত্বের অধিকার, চলাচলের স্বাধীনতা, জমি ও সম্পত্তির অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত পূরণ হয়নি বলে মনে করছে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা।

নেপিডোর সঙ্গে প্রত্যাবাসন আলোচনা: বাস্তবতা কতটা?

মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার দাবি করছে, তারা যাচাই করা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে। তবে তারা বলেছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রত্যাবাসন শুরু সম্ভব নয়।

মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা মূলত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই বিষয়টি রাখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাখাইনের বড় অংশ যদি নেপিডোর নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তি করলেই প্রত্যাবাসন কার্যকর করা কঠিন।

বাংলাদেশের সঙ্গে কি আরাকান আর্মির যোগাযোগ আছে?

আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশ প্রকাশ্য কূটনৈতিক স্বীকৃতি না দিলেও বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

তবে বাংলাদেশ এখনো আরাকান আর্মিকে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ঢাকার কৌশল হচ্ছে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে মাঠের বাস্তবতার সঙ্গেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখা।

বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকার আমলে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি সেই সময় বলেছিলেন, ‘দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের স্বার্থে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ দখল করে থাকা আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ সরকার।’ এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন আরাকান আর্মির প্রধান।

আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু বাংলাদেশ-মিয়ানমার ইস্যু নয়। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমস্যা, মানবিক সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ এবং মানবাধিকার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, আসিয়ান এবং জাতিসংঘ—সব পক্ষই সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখলেও কার্যকর রাজনৈতিক সমাধান এখনো আসেনি। তবে আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রত্যাশা করে।

প্রত্যাবাসন কি সম্ভব?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অসম্ভব নয়, তবে বর্তমান কাঠামোয় দ্রুত প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা কম।

প্রত্যাবাসনের জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, রাখাইনে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা। দ্বিতীয়ত, নেপিডো ও আরাকান আর্মির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা। কেননা শুধু সীমান্ত পার করে মানুষ পাঠানো হলে তা টেকসই প্রত্যাবাসন হবে না।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিন পক্ষ

রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে এখন তিন পক্ষ তৈরি হয়েছে। এই তিন পক্ষ হলো বাংলাদেশ সরকার, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি। রোহিঙ্গা সংকটের প্রথম পর্যায়ে সমস্যা ছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়ন। নবম বছরে এসে সংকটের নতুন মাত্রা হলো, রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির যুদ্ধ।

এখন প্রত্যাবাসনের চাবিকাঠি শুধু ঢাকার হাতে নেই, এমনকি শুধু নেপিডোর হাতেও নেই। বাস্তব সমাধানের জন্য প্রয়োজন রাখাইনের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্বীকার করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো তৈরি করা।

নইলে রোহিঙ্গা ঢলের নবম বছরও শেষ হবে আর প্রত্যাবাসনের অপেক্ষা গড়াবে দশম বছরে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর পূর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করতে হলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা আরাকান আর্মির সহযোগিতা লাগবেই। বিষয়টা খুবই সোজা। তাদের ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়।’

‘আর একবার যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা আরাকান আর্মির সঙ্গে কম-বেশি একটা বোঝাপড়া হয়ে যাবে, তখন প্রত্যাবাসন সম্ভব হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বারবার শুধু জাতিসংঘের কাছে ছুটে যাওয়াটা আমার মনে হয় কেবল মিয়ানমারকেই বিচ্ছিন্ন করছে না, এটি এই অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি পক্ষকেও আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আর তারা ভাবছে, ঠিক আছে, এগিয়ে যাও, জাতিসংঘের কাছে যাও এবং পারলে করে দেখাও।’

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমি মনে করি না যে এভাবেই কাজ হবে। আমি মনে করি না যে জাতিসংঘ এই সংকট সমাধান করতে পারবে। তারা বাস্তবে খুব কম সংকটই সমাধান করতে পেরেছে, সেদিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকেই তাকিয়ে দেখুন। তাই আমি মনে করি না তারা এটি করতে পারবে। আর এটি মিয়ানমারকে ভুল বার্তা দেয়।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব আনাম খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর আমরা দেখতে পাচ্ছি যে মিয়ানমার সরকারের মনোভাবে অনেকগুলো পরিবর্তন এসেছে। সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে আসলে হতাশ হওয়ার কোনো জায়গায়ই আমি এখন দেখছি না। তবে দুটি জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে, পলিসি বা ডিপ্লোম্যাটিক ইনিশিয়েটিভ যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। অর্থাৎ তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য যে ধরনের কনডিউসিভ এনভায়রনমেন্ট দরকার, যে ধরনের পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন দরকার এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ট্রেডের বিষয়গুলো যে জায়গায় আছে, সেগুলো ইমপ্রুভ করলে আমার মনে হয় না যে এই রিপ্যাট্রিয়েশন (প্রত্যাবাসন) খুব বেশি ডিফিকাল্ট হবে।’

‘তবে এটাও সত্য কথা যে, এই মুহূর্তে যদি আমরা মনে করি যে হানড্রেড পার্সেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন এই মুহূর্তেই হয়ে যাবে, সেটাও অতিচিন্তা হয়ে যাবে। তবে ফেজ বাই ফেজ এই প্রক্রিয়াটা, আমার ধারণা, বছরখানেক বা বছর দুইয়ের মধ্যে শুরু করা সম্ভব’, যোগ করেন অধ্যাপক শাহাব আনাম খান।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রসচিব যা বলছেন

রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর পূর্তিতে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিটি অতিরিক্ত বছর বাড়ার অর্থ হলো শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটা, শৈশব হারানো, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, মনস্তাত্ত্বিক ভঙ্গুরতা, পরিবেশগত চাপ এবং অবৈধ উপায়ে অন্যত্র অভিবাসনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। অনেক দিক থেকেই স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একই সঙ্গে, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে তাদের নিজ সমাজে পুনঃএকত্রীকরণের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে নীতিগত বিষয়টি স্পষ্ট: এই সংকটে ‘সময়’ নিজেই এখন একটি বড় অনুঘটক বা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৮ এবং ১৯৯২ সালের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে প্রত্যাবাসন কোনো কাল্পনিক ধারণা নয়। তবে সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধে এবার সমাধানটিকে আরও বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ হতে হবে। আমাদের প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সমর্থনপুষ্ট কূটনীতি, উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা, অধিকার ও পুনঃএকত্রীকরণের সহায়তায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যা বলেছেন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ২০১৭ সালের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত করে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কাজ করেছে। বাংলাদেশ এই দায়িত্ব নিয়েছে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি রোহিঙ্গা সংকটের চূড়ান্ত সমাধান নয়। এই সংকটের মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও বারবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান এবং যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।


   আরও সংবাদ