ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
চট্টগ্রাম: শুধু রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৩ কোটি মানুষের বাস যাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার। যা পৃথিবীর অনেক উন্নত ছোট দেশের অর্থনীতির চেয়েও বড়।
ফলে বাংলাদেশের এই বিশাল বাজার ধরতে জাপানের বড় বড় ব্যবসায়ীরা নজর রাখছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা (Kazuiki Kataoka)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেমিনার হলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার দিন দিন বাড়ছে। এই বাজার লক্ষ্য করে জাপানের সাড়ে তিন শতাধিক ব্যবসায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও রপ্তানি করছে।
এ ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পেও জাপানের বিনিয়োগ রয়েছে। জাপানের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি-ইপিএ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ ও আমদানি-রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।
জাপানি কোম্পানিগুলো ঢাকার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি বিশেষায়িত ইকোনমিক জোনের পাশাপাশি চট্টগ্রামেও বিশেষ করে জ্বালানি সেক্টরে বিনিয়োগে আগ্রহী।
বিনিয়োগ প্রসারে সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের সাথেও কাজ করতে জাপান আগ্রহী বলে জানান জেটরো প্রধান।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদের সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সঞ্চালনায় সভায় চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফ’র এমডি মোহাম্মদ ইউসুফ ও জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার বক্তব্য দেন।
এ সময় চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, চেম্বার পরিচালক আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম ও মো. সেলিম নুর, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. সালেহ জহুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন খাদ্য, ডিটারজেন্ট ও পারসোনাল কসমেটিকস পণ্যেও রয়েছে জাপানি বিনিয়োগ।
তিনি চট্টগ্রামের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে সেমি কন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় সেক্টরে জাপানি কোম্পানিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সাথে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে স্টার্টআপ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা কামনা করেন।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চল আগামীতে দেশের বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে। এই সম্ভাবনা টেকসইভাবে কাজে লাগিয়ে জাপানের মতো একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সাথে প্রাইভেট সেক্টরও কাজ করছে।
তিনি বাংলাদেশের অন্যান্য মেগা প্রকল্পের ন্যায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং এলএনজি খাতেও জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে জেটরোর প্রধানকে আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা বাংলাদেশ থেকে তৈরিপোশাক আমদানি বাড়ানোসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সোলার ব্যাটারি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও এসএমই খাত এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।