ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ঢাবির দুই শিক্ষার্থী পেলেন আলী রীয়াজ গবেষণা পুরস্কার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


ঢাবির দুই শিক্ষার্থী পেলেন আলী রীয়াজ গবেষণা পুরস্কার

সদাচরণ, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও লেখাপড়ায় সন্তোষজনক অগ্রগতির ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে আলী রীয়াজ গবেষণা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছয় শিক্ষার্থীকে গবেষণা বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে গবেষণা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

 

আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার পেয়েছেন অর্থী নবনীতা ও ফারাহ জাহান শুচি।

আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা বৃত্তি পেয়েছেন ফারাহ জাহান শুচি, উসামা রাফিদ, আজরা হুমায়রা, কৌরিত্র পোদ্দার তীর্থ, মোহাম্মদ আল মুকিত ও মুহাম্মদ মুযযাম্মিল হক।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো সাফল্যের পেছনে পরিবার, বাবা-মা ও সমাজের অনেকের অবদান ও সহযোগিতা থাকে। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠে এসব অবদানের প্রতিদান দিতে হবে।

তিনি বলেন, সুখী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও দেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও অ্যালামনাইদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব।

উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করে বড় আকারের ‘এনডাউমেন্ট ফান্ড’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আলী রীয়াজ তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করেন। তবে প্রশ্ন করার সাহস যেন ঔদ্ধত্যে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত জবির ১৬ শিক্ষার্থী

স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত জবির ১৬ শিক্ষার্থী

 

আলী রীয়াজ বলেন, আপনাকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। আপনার যুক্তি হবে শাণিত। কিন্তু তা যেন তরবারিতে পরিণত না হয়, সেটাও আপনাকে মনে রাখতে হবে। আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে যুক্তি। আপনার বড় শক্তি যেন কেবল বর্বরতা এবং শক্তিমত্তা না হয়, সেটাও আপনাকে বিবেচনা করতে হবে। ভিন্নমত থাকবে এবং ভিন্নমতের প্রতি আপনার শ্রদ্ধাশীল হওয়া খুবই জরুরি।

বিশ্বব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যে ব্যবস্থাটা গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে পড়েছে। তার বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। একসময় এই বিশ্বব্যবস্থা দ্বিমেরু বিশিষ্ট ছিল, পরে একমেরু বিশিষ্ট হয়েছে। এখন এটা বহুভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এগুলো বলছি, কারণ আমরা এখন বিশ্বনাগরিক। হরমুজ প্রণালী নিয়ে আপনার চিন্তার কোনো কারণ ছিল না। বাব আল-মান্দাব কোথায়, আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন। কিন্তু এখন আপনাকে সেটা মনে রাখতে হচ্ছে, প্রতিদিন তার খবর শুনতে হচ্ছে। তার কারণে আপনার প্রতিদিনের কাজ, এমনকি খাবারদাবারের ওপরও প্রভাব পড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে। ইসরায়েলের সঙ্গে গাজায় যে সামরিক অভিযান ও নিপীড়ন চলছে, তারও প্রভাব পড়ছে।

গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ কেবল একটি নির্বাচন নয়। গণতান্ত্রিক উত্তরণ মানে হচ্ছে আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। নাগরিক হিসেবে আপনার যে অধিকার, সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তরুণ হিসেবে যে ভবিষ্যৎ আপনি তৈরি করতে চান, যে দেশে আপনি থাকতে চান, সেই দেশ তৈরি করার দায়িত্ব আপনার। এটা আর কেউ করে দেবে না।


   আরও সংবাদ