ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০২৪,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

চাকরির নামে ভারতে নিয়ে কিডনি বেচে দেয় চক্রটি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৪ ১৬:২০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৩ বার


চাকরির নামে ভারতে নিয়ে কিডনি বেচে দেয় চক্রটি

ঢাকা: দরিদ্র মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে যায় একটি চক্র। এরপর সেখানে জিম্মি করে অর্থের লোভসহ নানা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয় কিডনি।

 

 

হাতিয়ে নেওয়া এসব কিডনির গ্রহীতারাও বাংলাদেশি। কিডনি হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ধানমন্ডি থানায় রবিন নামে এক ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১১ মে) ধানমন্ডি ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এবং বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো.রাজু হাওলাদার (৩২), শাহেদ উদ্দীন (২২) ও মো.আতাহার হোসেন বাপ্পী (২৮)। তবে চক্রের সদস্য মো.মাছুম (২৭), শাহীন (৩৫) ও সাগর মোস্তফাসহ (৩৭) অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন এখনো পলাতক।

ধানমন্ডি থানা পুলিশ জানায়, সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশের দরিদ্র মানুষকে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভারতে নিয়ে কৌশলে তাদের কিডনি হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী রবিনকে ভারতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথমে দিল্লির ফরিদাবাদ এলাকায় নেওয়া হয়। পরে তাকে নানা কৌশলে কিডনি বিক্রির জন্য রাজি করে। চুক্তি অনুযায়ী চক্রটি তাকে ছয় লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে দেয় ৩ লাখ টাকা।

রোববার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খ. মহিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, গত বছরের এপ্রিলে মিরপুর-১০ নম্বর শাহ আলী মার্কেটের পেছনে চায়ের দোকানে রবিন তার এক বন্ধুর সঙ্গে চা পান করছিলেন এবং সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে কথাবার্তা বলছিলেন।  

এ সময় পাশে বসে থাকা ওই চক্রের সদস্য মাছুম বলেন যে, ভারতে তার ব্যবসা আছে এবং তার প্রতিষ্ঠানে তিনি রবিনকে চাকরি দিতে পারবেন। একপর্যায়ে মাছুমের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ফোন নম্বর আদান-প্রদান করেন রবিন। তাদের মধ্যে নিয়মিত কথা হতো। কথাবার্তার একপর্যায়ে ভারতে গিয়ে চাকরির বিষয়ে রাজি হন রবিন।

খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, মাছুম রবিনকে বলেন, ভারতে তার প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য যেতে হলে ডাক্তারি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে রবিনকে নিয়ে যান মাছুম। সেখানে রবিনের সঙ্গে রাজু হাওলাদারের পরিচয় হয়। পরে তারা রবিনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তার পাসপোর্ট নিয়ে নেন ভারতের ভিসার জন্য।

ভিসার পর মাছুম ও রাজু হাওলাদার ভুক্তভোগী রবিনকে চক্রের আরও দুই সদস্য শাহেদ উদ্দিন ও আতাহার হোসেন বাপ্পীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ভুক্তভোগীকে চক্রের সদস্যরা জানান, তারা একে অপরের ব্যবসায়িক পার্টনার, বাংলাদেশ ও ভারতে তারা যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন।

পরে রবিনকে ভারতের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে গ্রহণ করেন শাহীন ও সাগর। তারা রবিনের পাসপোর্ট হাতিয়ে নেন। পরে দিল্লি থেকে তাকে ফরিদাবাদ নামে একটি এলাকার রাখা হয়।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ফরিদাবাদে রবিন আটকে থাকা অবস্থায় সেখানে যান মাছুম ও সাগর। মাছুমকে পেয়ে তিনি চাকরির কথা জিজ্ঞেস করেন। মাছুম নানা টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে রবিনের আর্থিক অনটন, সাংসারিক অর্থনৈতিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে তাকে একটি কিডনি দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করেন মাছুমসহ চক্রের সদস্যরা।

তারা রবিনকে ভয়ভীতি দেখান যে, পাসপোর্ট ছাড়া তিনি দেশেও ফিরতে পারবেন না। পরে তাকে নয়াদিল্লির এশিয়ান হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কিডনি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষা করান চক্রের সদস্যরা। পরীক্ষা শেষে কিছুদিন পর রবিনকে ভারতের গুজরাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুক্তিনগর এলাকায় দুইতলা একটি বাসায় তাকে রাখা হয়।  

ডিএমপির এ অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত ৪ মার্চ ভারতের গুজরাট কিডনি অ্যান্ড স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রবিনের একটি কিডনি নেওয়া হয়। চার দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ১০ থেকে ১১ দিন ভুক্তভোগী রবিনকে অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রাখেন চক্রের সদস্যরা। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, তার কিডনি প্রায় ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

রবিনকে কিছু টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। বাংলাদেশে অবস্থান করা চক্রের অন্য সদস্যরা তার স্ত্রী ইশরাত জাহানের বিকাশ নম্বরে তিন লাখ টাকা দেন। দেশে ফিরে রবিন বুঝতে পারেন, তিনি চক্রের খপ্পরে কিডনি হারিয়েছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির এ অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তাদের টার্গেট, যাদের আর্থিক চাহিদা আছে, তারা। রবিনের ক্ষেত্রে যেটি ঘটেছে, তাকে খুব সামান্য পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে। চক্রটি এসব কিডনি চড়া দামে বিক্রি করে‌। চক্রটি বাংলাদেশ থেকে শুরু করে কলকাতা ও গুজরাটেও কাজ করে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমরা জানতে পেরেছি, চক্রটি এ পর্যন্ত ভারতে নিয়ে ১০ জনের কিডনি হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের পাইপলাইনে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন রয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।


   আরও সংবাদ