ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার


এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা

একজন মার্কিন ফেডারেল বিচারক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য বার্ষিক ১ লাখ ডলার ফি অবৈধ ঘোষণা করেছেন। আদালতের মতে, এই ফি আসলে একটি কর, যা ফেডারেল প্রশাসনিক আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী।

 

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন ৪২ পৃষ্ঠার এক রায়ে এই সিদ্ধান্ত দেন। ২০ জন ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাম্পের ঘোষিত এই ফি চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিলেন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প এই ফি চালু করেন, যার ফলে এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার খরচ আগের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। আদালতের রায়ে এই ফি বাতিল করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

রায়ে বিচারক সোরোকিন বলেন, এই ফি কোনো নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ নয়, বরং কার্যত একটি কর।

আর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। ফলে ট্রাম্পের এ ধরনের ফি আরোপের আইনগত ক্ষমতা ছিল না।

 

সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিচারক ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ‘লার্নিং রিসোর্সেস বনাম ট্রাম্প’ মামলার রায়ের উল্লেখ করেন। ওই রায়ে ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

ট্রাম্প প্রশাসন এই ফি আরোপের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর ওপর নির্ভর করেছিল। তবে আদালত বলেছে, ওই আইনে কর আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

গত সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প এই ফি কার্যকর করেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, এইচ-১বি কর্মসূচির কারণে বিপুল সংখ্যক মার্কিন কর্মী বিদেশি কর্মীদের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছেন।

তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক বলেছিলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ পদক্ষেপের পক্ষে রয়েছে এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে মার্কিন নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

তবে আদালতের এ রায় বিশেষভাবে স্বস্তি এনে দিয়েছে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতকে, যারা এইচ-১বি কর্মসূচির সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে শুধু অ্যামাজনের ১০ হাজারের বেশি এইচ-১বি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া মাইক্রোসফট ও মেটা প্রত্যেকটির ৫ হাজারেরও বেশি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।

১৯৯০ সালে চালু হওয়া এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত নিয়োগ দিতে পারেন। প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ ভিসা এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। এই ভিসার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কম্পিউটার ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট পেশায় ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


   আরও সংবাদ