ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২০ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:১২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার


৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা (এমপি)।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের (জোটের) প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

 

দুই প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় এবার রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা হবে।

গণনা শেষে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি কম থাকায় ইসি দক্ষতা কম থাকলেও সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

কখন, কোথায় ভোট:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ভোট হবে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বুঝিয়ে দেবেন। এরপর শুরু হবে ভোটগ্রহণ।

বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। সব ভোট এর আগেই শেষ হয়ে গেলে গণনার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ থাকবে। তবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে। 

ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসনে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ায় এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দলভিত্তিক অবস্থান হলো:

বিএনপি-২৪৭ জন, জামায়াতে ইসলামী-৭৭ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-৮ জন, স্বতন্ত্র-৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-৩ জন, অন্যান্য ছোট দল মিলিয়ে-৬ জন; সব মিলিয়ে ভোটার ৩৪৯ জন। 

বিএনপির ২৪৭ ভোট, অলি আহমদের পক্ষে ১১ দল:

সংসদে সংখ্যার দিক থেকে বিএনপি অনেক এগিয়ে। দলটির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। বিপরীতে জামায়াতের ৭৭ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে এনসিপি ও অন্যান্য শরিক দলের সদস্যরা অলি আহমদের পক্ষে রয়েছেন। 

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। ফলে সংসদীয় সংখ্যার হিসাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনেকটাই এগিয়ে। তবে যেহেতু দুই প্রার্থী মাঠে রয়েছেন, তাই আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা করেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করতে হবে।

প্রার্থী দু’জন যেভাবে:

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি মনোনয়নপত্র জমা দেন আর অলি আহমদ জমা দেন দু’টি মনোনয়নপত্র। তবে অলি আহমদের দু’টি মনোনয়নপত্রই বৈধ হলেও ইসি একটিই গ্রহণ করে। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রও বৈধ হয়।

১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়েও কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে দুজনই এখন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

৩৫ বছর পর কেন আবার ভোট:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দেন না। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে গত কয়েক দশকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় সংসদে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। একজন প্রার্থী থাকায় তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। 

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত ব্যবস্থা পুনরায় ফিরে এলে সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকৃত অর্থে ভোটগ্রহণ হয়নি। এবার দুই প্রার্থী থাকায় সেই দীর্ঘ বিরতির অবসান হচ্ছে। 

১৯৯১ সালের পর আর কেন ভোট হয়নি:

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আর সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বড় দলগুলো সাধারণত একজন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। 

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনেই সর্বশেষ সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর একাধিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি।

ভোট কীভাবে হবে:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট সাধারণ সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি অংশে থাকবে ব্যালটের ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন।

অন্য অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর নাম থাকবে। প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজানো থাকবে। ভোট দেওয়ার নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যকে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর ব্যালট নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে। ব্যালটের রঙ হবে সাদার ওপর কালো ছাপা।

তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স:

ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্সে ব্যালট জমা দেবেন। ভোট শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট বাক্স খোলা হবে এবং গণনা করা হবে।

এই ভোট গোপন ব্যালট নয়:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এবারের ভোটের অন্যতম আলোচিত বিষয় হচ্ছে ব্যালটের ধরন। সাধারণ নির্বাচনে ভোটার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে গোপনে ভোট দেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই ব্যালটে সংসদ সদস্যকে নিজের নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। ফলে কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।

এ নিয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা তৈরি হয়েছে। 

৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক:

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট  দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট সংসদ ভবনে হলেও এটি সংসদীয় কার্যক্রমের সাধারণ ভোট নয়; এটি একটি পৃথক সাংবিধানিক নির্বাচন। এই কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে আইনগত বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে আদালতে রিটও হয়েছে। তবে ভোটের তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। 

সংসদ কক্ষে প্রচারণা করা যাবে না:

ভোটের দিন সংসদ কক্ষে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। ভোট প্রদানের সময় কোনো সমস্যা হলে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। 

ফল কখন জানা যাবে:

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। গণনার সময় প্রথমে হিসাব করা হবে-কতজন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ

কতটি ব্যালট বাতিল, কতটি ব্যালট অব্যবহৃত, প্রত্যেক প্রার্থী কতটি বৈধ ভোট পেয়েছেন। এরপর যে প্রার্থী সর্বাধিক বৈধ ভোট পাবেন, নির্বাচনী কর্তা তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন। অর্থাৎ ভোটের ফল জানার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। ভোট গণনা শেষ হলেই ফল ঘোষণা করা হবে।

গেজেট কখন হবে:

ভোটের ফল ঘোষণা করার পর নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফল ঘোষণার পর কমিশনে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে ২০ আগস্টই ফল ঘোষণা এবং গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে। 

শুক্রবার শপথ:

নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

শপথ অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকবেন।

মির্জা আব্বাস থাকবেন কি না:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ৩৪৯ ভোটারের তালিকায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের নাম রয়েছে। তবে তিনি ভোটের দিন সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মির্জা আব্বাস সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। ফলে তাঁর শারীরিক উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে ২০ আগস্ট তিনি ভোট দিতে সংসদে থাকবেন কি না-এটি ভোটের দিনের আগ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সহায়ক কর্মকর্তা ২০ জন:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচনী কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনকে সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশন ২০ জন কর্মকর্তাকে সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তাঁরা হলেন- ইসি সচিব আখতার আহমেদ, যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দীন খান, উপসচিব রাশেদুল ইসলাম, পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন, উপসচিব মুনীর হোসাইন খান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম, সিনিয়র সচিবের একান্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব এ টি এম শামীম মাহমুদ,  সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আফজাল আহাম্মেদ, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া, একান্ত সচিব এএসএম জাকির হোসেন, একান্ত সচিব এসএম হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম, একান্ত সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী সচিব আসমা দিলারা জান্নাত, একান্ত সচিব রৌশন আরা বেগম, সিনিয়র সহকারী সচিব আরাফাত আরা ও সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম ইকবাল হাসান। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। 

নির্বাচনী কর্তা কে:

এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী তিনি ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা ও ফল ঘোষণার মূল দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট শেষে সংসদ কক্ষেই তিনি ফলাফল ঘোষণা করবেন। 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় সংসদের ভূমিকা:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার সংসদ সদস্যরা হলেও নির্বাচনটি পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় নির্বাচনের জন্য সংসদ কক্ষ, সদস্যদের প্রবেশ ও বসার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে। অর্থাৎ ভোট হবে সংসদ ভবনে, কিন্তু নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে। 

তফসিল কবে ঘোষণা হয়েছিল:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ৬ আগস্ট। তফসিল অনুযায়ী-৩ আগস্ট, মনোনয়নপত্র জমা; ১৬ আগস্ট, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই; ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। আর ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা–বিকেল ৫টা। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ:

২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

তার পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেই ২০ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। 

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের কী হবে:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে সংসদ সদস্য। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফলে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হবে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব কী:

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা হলেও রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন, সংসদ আহ্বান ও অধিবেশন সমাপ্তির ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন, সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি দেন এবং সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবেও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান রয়েছে। 

কেন এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

সংখ্যার হিসাবে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে থাকলেও এবারের নির্বাচনকে কেবল ফলাফলের হিসাব দিয়ে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোট দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের উপস্থিতি নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত করেছে।

ফলে ভোটের ফলের পাশাপাশি ভোটদানের হার, অনুপস্থিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা, বাতিল ভোট এবং দলীয় অবস্থানের বাইরে কোনো ভোট পড়ল কি না, এসব বিষয়ও রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকবে।


   আরও সংবাদ