ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি

ছাগল-ভেড়ার ভাইরাসজনিত রোগ পিপিআর এবং গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ এফএমডি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইতালির রোমে এফএও আয়োজিত ‘এফএও গ্লোবাল কনফারেন্স ফর অ্যাকশনস অন ওয়ান হেলথ ইন এগ্রিফুড সিস্টেমস’-এর একটি সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

 

‘ওয়ান হেলথ এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ হওয়ায় এসব রোগ কোনো একক দেশের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করা সম্ভব নয়।

এ জন্য বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উন্নয়ন সহযোগী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে টেকসই অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা ও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পিপিআর ও এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় জোরালো টিকাদান ও সক্রিয় নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে পিপিআর রোগমুক্ত দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউওএএইচের বৈশ্বিক কৌশল এবং ২০২৪-২০২৮ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় দেশব্যাপী ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম চলছে। নজরদারি কার্যক্রমে কোনো প্রাদুর্ভাব শনাক্ত না হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পিপিআর নির্মূল কর্মসূচির ডসিয়ার ডব্লিউওএএইচের কাছে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ।

এফএমডি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রগ্রেসিভ কন্ট্রোল পাথওয়ে’ অনুসরণ করে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক এফএমডি টিকাদানের ছয়টি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং সপ্তম ধাপ চলমান। নিরাপদ ও টেকসই মাংস রপ্তানির ভিত্তি গড়ে তুলতে এফএমডিমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও কাজ করছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, এফএওর কারিগরি সহায়তায় এফএমডির ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন এবং প্রাণীরোগের প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া বিষয়ে একটি ফিল্ড ম্যানুয়াল প্রণয়ন করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাতীয় এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল ২০২৫-২০২৮ এবং পিপিআর নির্মূলের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৮ অনুমোদন করেছে।

এফএমডির এসএটি-১ (SAT1) সেরোটাইপের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো এই সেরোটাইপ শনাক্ত হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপার, প্রাণিসম্পদের চলাচল, প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত উপকরণ আমদানি এবং ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রাণীর বাড়তি চলাচলের মাধ্যমে এটি দেশে প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে।

প্যানেল আলোচনায় তানজানিয়া, চাদ, ক্যামেরুন, নাইজেরিয়া ও মঙ্গোলিয়ার মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


   আরও সংবাদ