ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনীর চতুর্থ আয়োজন। শতাধিক স্টলে সাজানো পাকিস্তানের বিভিন্ন পণ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রির (পিএইআই) চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস ও পিএইআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম. খুরশিদ বারলাস।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ঢাকায় ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনীর চতুর্থ আয়োজন বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানি পণ্য ও সেবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের পণ্য এ দেশের বাজারের পাশাপাশি আঞ্চলিক অন্যান্য বাজারেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি পণ্য পুনঃরপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।
দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের যাতায়াত সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য সহজ ভিসা ব্যবস্থা ও সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং তৃতীয় দেশে যৌথভাবে বাণিজ্য প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি।
পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধি ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ একসময় বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ব্যবসায়ীদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা ছিল। বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এর সুফল পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এ আয়োজনে সমাগম ঘটবে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হবে।
আয়োজকরা জানান, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। লজিস্টিকস, সাপোর্ট, হসপিটালিটি, এয়ারলাইন ও ভেন্যু পার্টনার হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত রয়েছে।
তবে আইসিসিবির প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশই নেই। পণ্যের সঙ্গে মিশে আছে স্মৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগও।
মেলায় অংশ নেওয়া পাকিস্তানের এক নারী উদ্যোক্তার কথায় উঠে আসে বাংলাদেশের প্রতি তার ব্যক্তিগত টান ও ভালোবাসার গল্প। বাংলাদেশে এসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখানকার আতিথেয়তা তাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। বাংলাদেশের মানুষকে দেখে তার নিজের ভাই-বোনের কথা মনে হয়।
বাংলাদেশে দ্বিতীয়বার আসার কথা জানিয়ে ওই উদ্যোক্তা বলেন, এখানকার মানুষের ভালোবাসার টানেই তিনি আবার এসেছেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে তিনি পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষায়, পাকিস্তানের মানুষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবসময় দোয়া ও শুভকামনা রয়েছে।
আইসিসিবির ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনী তাই একদিকে যেমন পাকিস্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রও তৈরি করেছে।
১০৪টি স্টলে সাজানো পণ্যের ভিড়ে যেমন রয়েছে ব্যবসার সম্ভাবনা, তেমনি রয়েছে ব্যক্তিগত স্মৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের ভালোবাসার গল্প। আর সেই গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সহজ ভিসা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ, যৌথ বিনিয়োগ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মতো বড় অর্থনৈতিক প্রত্যাশা।