ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে দেশটির সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর শুধু ‘দাতা ও গ্রহীতা’র দৃষ্টিকোণ থেকে ইইউর কাছে বিবেচিত নয়।
বরং দুই পক্ষের মধ্যে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে আয়োজিত এক সেশনে এ কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
মাইকেল মিলার বলেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভূঅর্থনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকার ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের প্রতি ইইউর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে। দেশটি অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ এফটিএ নিয়ে আলোচনার আগে উভয়পক্ষের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক ও লাভজনক চুক্তির যথেষ্ট অভিন্ন ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য ‘সমতল ক্ষেত্র’ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
মাইকেল মিলার বলেন, এ ধরনের চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসনের ওপর। বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন তদারকি এবং পূর্বাভাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রয়োজন।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বে ইউরোপীয় বিনিয়োগের সঙ্গে প্রযুক্তি, মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন যুক্ত করতে চায় ইইউ। একইসঙ্গে জনশাসন সংস্কারে ইউরোপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগও রয়েছে।
মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়নযাত্রায় ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) বাণিজ্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন সেই সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ও কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার সময় এসেছে।
নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। শনিবার (৩ অক্টোবর) এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সিজিএস আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সোমবার (৫ অক্টোবর) শেষ হবে।