স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনে সরকারের হস্তক্ষেপের হুমকিতে ফিফার নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় পড়েছে বুরকিনা ফাসো। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও সামরিক নেতা ইব্রাহিম ত্রাওরে ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে প্রীতি ম্যাচে হারের পর দেশটির ফুটবলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
বুয়েনস এইরেসে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয় বুরকিনা ফাসোর ফুটবলারদের।
ট্রানজিট ভিসার জটিলতা ও ঘুরপথে দীর্ঘ বিমানযাত্রার কারণে কয়েক দিন ধরে ভ্রমণ করতে হয় দলটিকে। ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে গন্তব্যে পৌঁছান ক্লান্ত খেলোয়াড়েরা।
বিদেশে খেলা কয়েকজন নিয়মিত ফুটবলারকেও দলে পায়নি বুরকিনা ফাসো।
এই পরিস্থিতির জন্য দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কর্নেল-মেজর উমারু সাওয়াদোগোর নেতৃত্বের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে।
জাতীয় দলের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে ফেডারেশন ব্যর্থ হয়েছে বলে সমালোচনা করা হচ্ছে।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরএমসি স্পোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ত্রাওরে। ফুটবলের সংকট কাটাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি যে আমাদের ফুটবল অসুস্থ, আর আমরা এর প্রতিকার খুঁজে বের করব। আবার বিনিয়োগ করতে হলে আগে এই রোগ সারাতে হবে। আমার মনে হয়, পরিস্থিতি এগিয়ে নিতে এই সপ্তাহেই আমাদের বড় কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ফেডারেশনের নেতৃত্বকে দেওয়া হুঁশিয়ারিতে ত্রাওরে আরও বলেন, ‘শেষবার আমি ফেডারেশন সভাপতিকে বলেছিলাম, এখন পর্যন্ত আমরা আপনাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে চাইনি। কিন্তু এখন আমাদের আর কোনো উপায় নেই। ফিফার নিষেধাজ্ঞা আসুক বা না আসুক, আমাদের হস্তক্ষেপ করতেই হবে। তবে আমরা হস্তক্ষেপ করলে তা হবে সবকিছু গুছিয়ে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য।’
তবে সরকারের এমন উদ্যোগ ফিফার বিধির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফিফা স্ট্যাটিউটের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ফুটবল ফেডারেশনের স্বাধীন কার্যক্রমে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ। সরকার ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি ভেঙে দিলে কিংবা বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এর আগে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের ফুটবল ফেডারেশনে সরকারি হস্তক্ষেপের ঘটনায় ফিফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। বুরকিনা ফাসোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে জাতীয় দল বিশ্বকাপ ও আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে খেলতে পারবে না। দেশটির ক্লাবগুলোও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাবে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে ফিফার ফরোয়ার্ড কর্মসূচির অর্থায়ন।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার এবং দলের ভ্রমণসংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা বুরকিনা ফাসোর ফুটবলে সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সরকারের হস্তক্ষেপের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ফিফার নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।