ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৪ বার
ডলারের মান কিছুটা কমা এবং জ্বালানি তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির নতুন তথ্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা।
এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আগের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলার ১ সেন্টে দাঁড়ায়।
দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়েও পৌঁছেছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৩০ ডলার ৪০ সেন্টে দাঁড়ায়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর তেলের দাম কমেছে। এর পাশাপাশি ডলারের মান কিছুটা দুর্বল হওয়ায় স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, তেলের দাম কমায় মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বাজারের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে বিনিয়োগের দিক থেকে স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রোববার ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের একটি সমঝোতার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে তিনি তখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল সরবরাহ বাড়তে পারে-এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা পেতে চলতি সপ্তাহের অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশ করা হবে উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ বলে মনে করছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন ৮৬ শতাংশ।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের মনোভাব আরও নেতিবাচক হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে দেশটিতে ভোক্তা-আস্থার সূচকও আরও কমেছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দরও বেড়েছে
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১ ডলার ১২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭০৪ ডলার ৭০ সেন্ট হয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬১ ডলার ৮১ সেন্টে পৌঁছেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স