ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:৩৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’ রেখে অমানবিকভাবে টর্চার করে মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি।
শনিবার (আগস্ট ০১) টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলামকে (তুলি)। তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন ছিলেন ২৫ নম্বর ওয়ার্ড (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানী থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় র্যাবের একটি দল। এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, অপেক্ষমান রুম থেকে টিআইফি সেল ২০ কদমের মতো। এই অপেক্ষমান রুমে আমরা মা আমার বোন সুমন ভাইয়ের স্ত্রীসহ গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারে স্বজনরা বছরের পর বছর বসেছিল।
মা যে অপেক্ষা রুমে থেকে কান্না করতেছিল...., আয়নাঘরে ডেথ সেলে মানুষ বেঁচে থাকার মত কিনা। ২০ কদম দুরে সন্তানকে কিন্তু মা ফিরে পায়নি। তখন রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন গুলো হয়েছে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে তুলি বলেন, বার বার প্রত্যেকটা জায়গায় যাচ্ছি যেন যথাযথ তদন্ত হয়। একটা জায়গায় (আয়নাঘর) মিনুর নাম লেখা দেখলাম। গুমের শিকার কায়সার ভাইয়ের স্ত্রীর নাম ছিল মিনু। এই জায়গাটাতে (আয়নাঘর) ১০ মিনিট থাকার মতো না। এই অমানবিকভাবে টর্চার করে মানুষকে হত্যা করার জন্য আসলে এইভাবে রাখার কি মানে ছিল? এগুলোর যথার্থ বিচার চাই। ন্যায়বিচার চাই, সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এর আগে র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউশন টিমসহ আইনজীবীরা।
শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে থাকা গোপন এ বন্দিশালা পরিদর্শন করেন তারা।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী আয়নাঘর পরিদর্শন করেন।
এ সময় সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদীসহ প্রসিকিউশন টিম ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন র্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর।