ঢাকা, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার হুমকি

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৮ অগাস্ট, ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৩ বার


বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার হুমকি

মাঠে ফুটবল আর গ্যালারিতে উন্মাদ নাচ; বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ এটাই। তবে সব আলো আর করতালির পেছনে এবার খেলা চলেছে অন্য এক অদৃশ্য লড়াইয়ের।

 

 

প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পাশাপাশি ফুটবল তারকাদের লড়তে হয়েছে সন্ত্রাস ও নিরাপত্তাঝুঁকির মতো ভয়ংকর শত্রুর বিরুদ্ধে। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো থেকে শুরু করে রেফারি ও সাধারণ খেলোড়াও বাদ যাননি এই হুমকির তালিকা থেকে।

 

 

মার্কিন পুলিশের ফাঁস হওয়া এক বিস্ফোরক নিরাপত্তা নথিতে উঠে এসেছে বিশ্বকাপ চলাকালীন তারকাদের ঘিরে তৈরি হওয়া এসব ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা। সেখানে বোমা হামলা, অস্ত্র নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার চক্রান্ত থেকে শুরু করে আত্মঘাতী হামলার মতো একাধিক হুমকির তথ্য রয়েছে।

 

 

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেশন ডট ইএস’-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ‘দ্য সান’।

আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দেন।

 

 

তিনি দাবি করেন, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে হ্যান্ড গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেলসহ স্টেডিয়ামে হামলা চালাবেন তারা। শুধু তা-ই নয়, সরাসরি লিওনেল মেসিকে হত্যার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

সংকট আরও ঘনীভূত হয় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক ব্যক্তি দাবি করেন, গায়ে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকবেন তিনি; যার মূল লক্ষ্য ছিলেন মেসি। ম্যাচের মাঝেই পুলিশকে ফোন করে জানানো হয়, গ্যালারির ডাস্টবিনে তিনটি বোমা রাখা আছে। সঙ্গে সঙ্গে পুরো স্টেডিয়ামে শুরু হয় তল্লাশি; নামানো হয় বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ও স্নাইফার ডগ।

 

মেসির মতো রোনালদোকেও তাড়া করে ফিরেছে নিরাপত্তা শঙ্কা। ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদো কোন হোটেলে আছেন, তা জানার জোর চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে আরেক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলে ঢুকে লিফটে তার সঙ্গী হওয়ার চেষ্টা চালান। পুলিশ তাকে আটকে দিলে তিনি জানান, কেবল একটি সেলফি তোলাই তার উদ্দেশ্য ছিল।

 

শুধু মাঠের ফুটবলাররাই নন, সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন ম্যাচ পরিচালকরাও। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয় ৬ হাজারের বেশি হুমকিবার্তা! একই ম্যাচের ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) উইলি দেলাজোকেও দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি।

 

মাঠে একটি সামান্য ভুল ফুটবলারের জীবনে কতটা নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে ফাঁস হওয়া নথিতে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় নরওয়ের আলেক্সান্ডার সরলথ ও তার স্ত্রী সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি পান।

 

কলম্বিয়ার জোন হামিন্তন কামপাজ পেনাল্টি মিস করার পর এমন হুমকির মুখে পড়েন যে, টুর্নামেন্ট শেষে জাতীয় দলের সাথে নিজের দেশে ফেরাও তার জন্য অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই ঘটনা ফিরিয়ে আনে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই কলঙ্কিত স্মৃতি, যেখানে আত্মঘাতী গোল করার মাশুল হিসেবে দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার।

 

বিশ্বকাপজুড়ে চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে ছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর প্যারাগুয়ের সমর্থকরা এমবাপ্পের কুশপুত্তলিকা পোড়ায় এবং তাকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী স্লোগান দেয়। এমনকি প্যারাগুয়ের এক সিনেটরও প্রকাশ্যে এমবাপ্পেকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন।

 

অন্যদিকে, গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়া দলেও তৈরি হয় অস্থিরতা। দলটির কোচ হং মিয়ং-বোর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দেশে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়, যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে তদন্তে নামে পুলিশ।

 

খেলোয়াড়দের মাঠ ও হোটেলের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছিল ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারও। এক ব্যক্তি হাতে ধাতব রেঞ্চ নিয়ে মিডিয়া সেন্টারে ঢুকে তাণ্ডব ও চিৎকার শুরু করেন। 

 

এই ঘটনার পর ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তৈরি করা হয় তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী, বসানো হয় কংক্রিটের ব্যারিকেড এবং অ্যান্টি-স্নাইপার স্ক্রিন। ড্রোন হামলা এড়াতে নো-ফ্লাই জোন জারির পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় প্রচুর সশস্ত্র পুলিশ।


   আরও সংবাদ