ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:০০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুনভাবে ‘রিঅ্যালাইন’ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না, তবে বন্ধু পরিবর্তন করা যায়।
তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে, তবে তা হতে হবে দুই স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাদের তো প্রতিবেশী পাল্টানো সম্ভব নয়। বন্ধু পাল্টানো যায়-পররাষ্ট্রনীতিতে এমন কথা বলা হয়।
তাই আমাদের এনগেজ করতে হবে। তবে আমাদের সম্পর্ক নতুন করে রিঅ্যালাইন করতে হবে।
তিনি বলেন, আগে ভারত যেভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছিল, সেখানে নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা ছিল। ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তৈরি হতে হবে।
তিনি বলেন, ভারতের অন্তত বক্তব্যে আমরা এখন জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলার বিষয়টি দেখছি। এটি ইতিবাচক। একই সঙ্গে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কাউন্টারপার্টদের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা থাকতেই হবে।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা আগের মতো বাংলাদেশে কাজ করতে পারবে না। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল দেশের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করতে হয়, সেভাবেই সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের বক্তব্য থাকতে পারে, আমাদেরও থাকতে পারে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু দুই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে যে ধরনের আলোচনা হওয়া উচিত, সেভাবেই হতে হবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সম্পর্ক তৈরি করা হবে না জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার কোনো দেশের সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক তৈরি করবে না, যাতে দেশের জনগণ বা রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, জনগণের কোনো সরকার জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ নষ্ট করে কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করবে না। এর মধ্যে কোনো এদিক-সেদিক হওয়ার সুযোগ নেই।
ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এনগেজমেন্ট থাকবে। তবে প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী বক্তব্যেও বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের বিষয়ে আগের বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হওয়ার একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা বুঝবে এবং গত ১৭ বছরে যেভাবে সম্পর্ক পরিচালিত হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের সফরকে অযথা রহস্যজনক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা থাকা স্বাভাবিক।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টি আগে থেকেই রয়েছে। তবে কবে সফর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি-এ বিষয়েও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এরই মধ্যে বক্তব্য দিয়েছেন।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি), প্রেস কাউন্সিল ও তথ্য কমিশনে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে বিভিন্ন মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষ সরকারি দায়িত্বে থাকতে পারেন। যতক্ষণ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা না থাকে, ততক্ষণ শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে সরিয়ে দেওয়া সরকারের নীতিগত অবস্থান নয়।
তবে যারা আগের সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বিষয়ে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ধাপে ধাপে পরিবর্তন হচ্ছে। সরকার তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায়নি।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করে জনগণের সামনে তা তুলে ধরা হবে।
বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, জরুরি বা সংকটকালীন সময়ে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতা কাজে লাগানোই প্রস্তাবিত নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশে এ নীতিমালা করা হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৮৬১টি কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দ্বিতীয় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ শেষে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে সারাদেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১ হাজার ১৭২টি প্রকল্পের বিপরীতে নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, ৯ আগস্ট পর্যন্ত ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপিভুক্ত প্রকল্পে মোট ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। অর্থবছর মাত্র শুরু হওয়ায় ব্যয়ের গতি ধীরে ধীরে বাড়বে বলেও জানান তিনি।