স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:৫৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হারের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপদ যেন কাটছেই না। গতকাল ম্যাচের চতুর্থ দিন টাইগাররা নয় উইকেটের এক দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে অজিদের ১৪৯ বছরের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় লজ্জার স্বাদ দিয়েছে।
কিন্তু প্যাট কামিন্সদের জন্য দুঃসংবাদ হলো, মাঠের হারের পর এবার তাদের আইসিসির বড় ধরণের শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
অজিদের এই নতুন বিপত্তির মূল কারণ হলো ‘স্লো ওভার রেট’ বা মন্থর বোলিং গতি।
শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অজি বোলাররা ৯০ ওভার শেষ করতে পারেননি। তারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ ওভার কম বোলিং করেছেন।
ক্রিকেটের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টের এক দিনে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৫ ওভার করে বোলিং করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আইসিসি-র কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম হওয়ার জন্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট টেবিল থেকে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও আরোপ করা হয়। প্রতি ওভারের ঘাটতির জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করা হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য ২০ হাজার ডলার করে পারিশ্রমিক পান। সেই হিসেবে ৪ ওভার কম হওয়ার কারণে দলের ১১ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকের ৪ হাজার ডলার করে জরিমানা গুণতে হতে পারে, যা পুরো দলের জন্য মোট ৪৪ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা প্রায়)। এছাড়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল থেকে তাদের ৪ পয়েন্ট কেটে নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে ৮৪ পয়েন্ট এবং ৭৭.৭৮ শতাংশ জয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। ৪ পয়েন্ট কাটা গেলে তাদের মোট পয়েন্ট ৮০-তে নেমে আসবে, তবে জয়ের শতাংশে পরিবর্তন না আসায় শীর্ষস্থান আপাতত সুরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে, ডারউইনে জিতে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন তালিকার চার নম্বরে উঠে এসেছে। মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশও প্রথম ইনিংসে ধীরগতিতে বল করেছিল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে ৮০ ওভারের আগেই (৫৩ ওভারে) অলআউট করে দেওয়ায় তারা এই শাস্তির হাত থেকে বেঁচে গিয়েছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল যদি প্রতিপক্ষের ইনিংস ৮০ ওভারের মধ্যে শেষ করে দিতে পারে, তবে স্লো ওভার রেটের শাস্তি কার্যকর হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাটিং করায় অস্ট্রেলিয়ার রেহাই পাওয়ার কোনো পথ নেই। যদিও ম্যাচ রেফারি ডারউইনের প্রচণ্ড গরম এবং উইকেট পতনের সময় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই পরিস্থিতি অনেকটা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে স্লো ওভার রেটের কারণে ৪ পয়েন্ট হারানোয় ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনের এই বিপর্যয় যেন অজি শিবিরে সেই পুরনো দুঃস্বপ্নই ফিরিয়ে আনছে।