ঢাকা, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

তেলের দাম অস্থিরতার শঙ্কা বাজারে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৯ অগাস্ট, ২০২৬ ১৬:২৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার


তেলের দাম অস্থিরতার শঙ্কা বাজারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও কোনো পক্ষ নতুন করে আলোচনায় আগ্রহী নয়। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এমনকি এই যুদ্ধ শুরু হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে হতে পারে-এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে আবার বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।

ক্রমেই বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

বিশ্ববাজারে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

 

বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ০.৭৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৫.২৫ ডলার। এর পাশাপাশি লন্ডনের ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ০.৪৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল হয় ৮১.২৩ ডলার।

এক সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।
২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়।

পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। ১৭ জুন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ যে বাড়ানো হবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ আর বাড়ছে না।

 

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ইরান জানায়, তারা ‘পূর্ণ আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে চলে যাবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূলত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগই এখন তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত শনিবার সেখানে মাত্র পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, গত রবিবার কোনো ট্যাংকারই সেখানে যায়নি। তার আগের রোববার ৩১টি ট্যাংকার চলাচল করেছিল।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এর সঙ্গে লোহিত সাগরে হুতিদের হামলার ঘটনায় নতুন করে সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৪.৭২৮ শতাংশে উঠেছে। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহারও প্রায় দুই দশকে সর্বোচ্চ ৫.৩১৫ শতাংশে উঠেছে। তেলের উচ্চ দামের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে যায়। ফলে নীতি সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকবে এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা, ট্রেডিং ইকোনমিকস


   আরও সংবাদ