ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:১২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৫ বার
মন্ত্রিসভায় রদবদলের অংশ হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এর আগে আফরোজা খানম রিতা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার স্থলে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সদ্য পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এম রশিদুজ্জামান মিল্লাট।
তিনি এর আগে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন এক সময়ে আফরোজা খানমের হাতে গেল, যখন খাদ্যনিরাপত্তা, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, সরকারি খাদ্য মজুত এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা বড় নীতিগত বিষয়।
দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো প্রয়োজনের সময়ে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুত নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষক যাতে ন্যায্য দাম পান এবং ভোক্তারা যাতে অস্বাভাবিক মূল্যচাপের মুখে না পড়েন-এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
আফরোজা খানম রিতার নতুন দায়িত্বকে মন্ত্রিসভার চলমান পুনর্বিন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনের মতো সেবা ও অবকাঠামোকেন্দ্রিক মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সরিয়ে সরাসরি জনজীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন মন্ত্রণালয়ে তার কাজের কেন্দ্রবিন্দু হবে খাদ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তা। বিশেষ করে বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে তার মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত সরকারের শুরু থেকেই মন্ত্রিসভার সদস্য। এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
শুক্রবারের রদবদলে শুধু আফরোজা খানমের মন্ত্রণালয় পরিবর্তন হয়নি; নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরও বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই পুনর্বিন্যাসের ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা ও নীতিগত অগ্রাধিকার সরকারের কার্যক্রমে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিও নজরে থাকবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর আফরোজা খানমের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সরকারি মজুত শক্তিশালী করা, কৃষকের কাছ থেকে কার্যকরভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন খাদ্য সহায়তা-সব মিলিয়ে মন্ত্রণালয়টির দায়িত্ব সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত।
তাই নতুন দায়িত্বে আফরোজা খানমের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়ানো। বিশেষ করে বাজারে স্থিতিশীলতা ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের দিকে এখন বিশেষ নজর থাকবে।