ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ অগাস্ট, ২০২৬ ১০:২৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার
বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়ংকর অপরাধ ‘গুম’ বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার এবং জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ হচ্ছে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স। এটি কটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন।
বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।
’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করার জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য তৈরি করেছিল গোপন বন্দিশালা। পলাতক ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিখানা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।’’
দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব উদ্ধৃত করে তিনি জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে, যা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।
বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বাণীতে বলা হয়, সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। ভবিষ্যতে গুম বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ মানবতাবিরোধী এ জঘন্য অপরাধের পথ বেছে নেবে না বলে সরকার আশা করে।
গুম হওয়া মানুষের পরিবারের মানসিক যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা বা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই, নেই শোক পালনের স্বাভাবিক সুযোগ।
তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। অপরদিকে ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি।’
আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই সনদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে রাখতে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এ বছর আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ (Victims First, Actions Now)।