আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার
আগামীতে হরমুজ প্রণালীর বাইরে ইরান একটি নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রেস টিভি জানায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর বাইরে নতুন এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ রেখা থেকে শুরু হয়ে উপসাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
তিনি বলেন, নতুন এই অঞ্চলে প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।
মোহসেন রেজায়ী বলেন, হরমুজের মধ্য দিয়ে নতুন করিডোর নিয়ে আগামী দিনে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যার প্রবেশ ও বহির্গমন পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে ‘বড় মিথ্যা’ দাবি করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রেজায়ী জানান, প্রণালীটি বন্ধ করার আগে প্রতিদিন একশো মিলিয়নের বেশি টন পণ্য বহনকারী শতাধিক জাহাজ এর মধ্য দিয়ে যাতায়াত করত।
বর্তমানে কেবল সাত বা আটটি জাহাজ ইরানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে এই জলপথ অতিক্রম করছে।
তিনি বলেন, আমেরিকানরা অনেক খরচ করে পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজ পার করার চেষ্টা করছে, তবে এই জাহাজগুলোতে সাধারণত হামলা চালানো হয়।
রেজায়ী জানান, জাহাজগুলো তেল বহন করায় এবং অঞ্চলের পরিবেশের ক্ষতি করবে—এই বিবেচনায় ইরান জাহাজগুলো ডুবিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেন, এর ৪৮ ঘণ্টা আগে ইরান একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের ওপর সফলভাবে নতুন একটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রথম আমরা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর আমাদের জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছি। এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি আমেরিকানদের জন্য নরক বানিয়ে তুলেছিল এবং তারা পালিয়ে যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে শত্রুতা অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিরসনের পদক্ষেপগুলোর কথা রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ ছিল। আগস্ট মাসে খুব একটা সামরিক পদক্ষেপ না থাকলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলায় তাদের যুদ্ধ বিরতি চুক্তি ভেস্তে গেছে।
সূত্র: আনাদুলো এজেন্সি