ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার


 ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তার দাবি, ইরানি বিমানকে আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি, বিমানবন্দর সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

 

 

তবে এর অর্থ সব ইরানি বিমান সংস্থার সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট একই দিনে নিশ্চিতভাবে বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটি স্পষ্ট নয়।

বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারীরা ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে কি না, তার ওপর পরিস্থিতির বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।

 

বেসেন্টের সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইরানি এয়ারলাইনকে সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও মার্কিন পদক্ষেপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সঙ্গে লেনদেন অব্যাহত রাখলে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের বিমান খাতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

এতে ইরানের ২৭টি এয়ারলাইনসহ মোট ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।

 

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক ইরানের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছে। মার্কিন ট্রেজারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সরঞ্জাম, কর্মী ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে এসব নেটওয়ার্কের ভূমিকা রয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে একাধিক ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও অর্থ লেনদেন, উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন বিমানবন্দর সেবা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সেবা ব্যাহত হলে এর প্রভাব শুধু ইরানের সামরিক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; বেসামরিক বিমান চলাচলও এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। তবে সেই প্রভাবের মাত্রা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ইরানের বিমান খাত অবশ্য বহু বছর ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ, আধুনিক খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির বিমান সংস্থাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প ব্যবস্থা ও সীমিত সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বেসেন্ট একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বিমান খাতসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ইরানের সামরিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সহায়তা করছে।

অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। তেহরানের অবস্থান হলো, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেশটির নীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি।

ফলে ২৩ সেপ্টেম্বরের পর ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কতটা ব্যাহত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিদেশি বিমানবন্দর ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়লে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

সূত্র: গালফ নিউজ


   আরও সংবাদ