আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৮ বার
টিকা উৎপাদন ও বৈশ্বিক সরবরাহে ভারত বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি বলেছেন, গত এক দশকে মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি, টিকা গবেষণা ও জৈবপ্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে মহামারি প্রস্তুতি ও টিকা উন্নয়নবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জিতেন্দ্র সিং। ভারতের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ ও মহামারি প্রস্তুতির উদ্ভাবনবিষয়ক জোট সিইপিআই যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জিতেন্দ্র সিং বলেন, ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদক এবং উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সরবরাহকারী। দেশটির বৈচিত্র্যময় রোগ পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা টিকা গবেষণা, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য জৈব চিকিৎসা সমাধান তৈরিতে বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে।
ভারতের জৈব অর্থনীতি ২০২৫ সালে ১৯৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি। এক বছরে এ খাতে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
একই সময়ে ভারতের জৈবপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোগের সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ৮৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৮০টি নতুন উদ্যোগ। দেশটির জৈব ওষুধ খাত মোট জৈব অর্থনীতির প্রায় ৩০ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, ভারত বর্তমানে ১০০টির বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করে। বিশ্বে উৎপাদিত টিকার প্রায় ৬০ শতাংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির প্রয়োজনীয় টিকার ৬৫ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে ভারত।
তিনি বলেন, আগে ভারত মূলত সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। এখন গবেষণা ও উদ্ভাবন থেকে শুরু করে উন্নত জৈবপ্রযুক্তি, জটিল জৈবিক পণ্য তৈরি এবং বড় পরিসরে উৎপাদন-টিকা উন্নয়নের পুরো প্রক্রিয়ায় সক্ষমতা তৈরি করেছে দেশটি। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও ভারত অল্প সময়ের মধ্যে টিকা তৈরি করে এবং তা বিভিন্ন দেশ ও অংশীদারের কাছে সরবরাহ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জিতেন্দ্র সিং আরও বলেন, ভারতের বৈচিত্র্যময় রোগ পরিস্থিতি টিকা ও রোগজীবাণু গবেষণার জন্য একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশটিতে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক ও বিপাকীয় রোগের চাপও রয়েছে। ফলে রোগজীবাণু, রোগের ধরন এবং বিভিন্ন রোগের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
সিইপিআইয়ের সঙ্গে ভারতের অংশীদারত্বকেও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। ভারত এই জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার। এক দশক পর নয়াদিল্লিতে সিইপিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও বিনিয়োগ পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভারতের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ, বিআইআরএসি ও সিইপিআইয়ের ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বের আওতায় ভবিষ্যৎ মহামারির প্রস্তুতি এবং নতুন সংক্রামক রোগের টিকা উন্নয়নে কাজ চলছে। ২০১৯ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই সহযোগিতা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আরও পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
এই অংশীদারত্বের আওতায় ভারতের প্রথম এমআরএনএ কোভিড-১৯ টিকা জিইএমকোভ্যাক-১৯ জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া চিকুনগুনিয়ার একটি নিষ্ক্রিয় টিকার প্রার্থী বর্তমানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় রয়েছে। বানরবসন্ত ও বিভিন্ন সারবেকোভাইরাসের বিরুদ্ধে বহুমুখী টিকার প্রার্থীগুলোও উন্নত পর্যায়ের প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় রয়েছে।
সিইপিআইয়ের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের ১৭টি পরীক্ষাগারের একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতের বিআরআইসি-টিএইচএসটিআই বায়োঅ্যাসে ল্যাবরেটরি। টিকা উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ভারত ও অন্যান্য দেশের গবেষকদের আটটি টিকা প্রার্থীর কাজে এই ল্যাবরেটরি সহায়তা করেছে। এখন পর্যন্ত টিকা উন্নয়নের জন্য সেখানে এক লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিইপিআইয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৪টি বন্ধুপ্রতিম ও প্রতিবেশী দেশের ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ অনলাইন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সক্ষমতা বাড়ানো।
জিতেন্দ্র সিং বলেন, ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা, গবেষণা অবকাঠামো ও রোগবৈচিত্র্যকে বৈশ্বিক প্রস্তুতি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের টিকা ও জৈব চিকিৎসা প্রযুক্তিতে গবেষণা, বড় পরিসরে উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।