ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘বিজিএমইএ জাপান ডেস্ক’।
সংযোগ, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য-বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ‘জাপান ডেস্ক’র উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাস, জেট্রো ঢাকা অফিস, ঢাকা শো-কু-কাই, টয়োটা সুশো, টেইজিন ফ্রন্টিয়ার, মারুবেনি, ইতোচু কর্পোরেশন এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান (বাবলু), সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং সংগঠনের একাধিক পরিচালকসহ সাধারণ সদস্যরা।
রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ফিতা কেটে জাপান ডেস্কের উদ্বোধন করেন।
জানা গেছে, জাপানের বাজারে পোশাক রফতানি বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে গত বছর বিজিএমইএর বর্তমান বোর্ড ‘জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ গঠন করেছিল, যার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন মিজানুর রহমান এবং কো-অর্ডিনেটিং ডিরেক্টর হিসেবে আছেন পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল।
এই কমিটির উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় আজ জাপান ডেস্ক চালু হলো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি জাপান ডেস্ক স্থাপনের জন্য বিজিএমইএকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে। তিনি টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্দিষ্ট খাত বা ঐতিহ্যবাহী বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সমীচীন নয়, তাই পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিএমইএ। জাপানের বাজার বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিপুল সম্ভাবনাময় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বল্পতম সময়ে পণ্য সরবরাহ বা ‘লিড টাইম’ মোকাবিলাই এখন জাপানের বাজারে রফতানির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানে জেট্রো ঢাকা অফিসের ওভারসিজ বিজনেস অ্যাডভাইজর দাইসুকে আরায়, ঢাকা শো-কু-কাইয়ের (জেসিআইএডি) সভাপতি ও টয়োটা সুশো কর্পোরেশনের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউজি ওয়াগাটা, টেইজিন ফ্রন্টিয়ার কো. লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার তাকামাসা ইয়ামামোতো, মারুবেনি কর্পোরেশনের কান্ট্রি হেড সুগাওয়ারা মানাবু, ইতোচু কর্পোরেশনের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোয়াকি ওউরা এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রূপান্তর, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কমপ্লায়েন্স নিয়ে কথা বলেন।
জাপানি ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশের পোশাক খাতের অগ্রগতি ও কমপ্লায়েন্স মানের প্রশংসা করে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সুদৃঢ় হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা দেন সংগঠনের মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.)।
স্বাগত বক্তব্যে মিজানুর রহমান পোশাকশিল্পের মার্কেটিং ও মার্চেন্ডাইজিং কর্মকর্তাদের জন্য জাপানের ভ্রমণ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জাপান ডেস্কের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন ফুরুশিমা (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সারওয়ার হাবিব এবং পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল।