ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

গার্মেন্টসের চেয়ে কুটির শিল্পে সম্ভাবনা বেশি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার


গার্মেন্টসের চেয়ে কুটির শিল্পে সম্ভাবনা বেশি

সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রচার ও বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতের চেয়েও কুটির ও হস্তশিল্পে বেশি আয় করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শরৎমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তৈরি দেশীয় পণ্যের মান ও সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য চাকরির তুলনায় কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে আরও স্বাবলম্বী করতে হলে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, সেই পণ্য মানুষের কাছে তুলে ধরতে কার্যকর প্রচারও প্রয়োজন। বিপণন সুবিধা বাড়ানো গেলে কুটির শিল্পের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং এ খাতে কর্মসংস্থান বাড়বে।

 

দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের চাহিদার কথা তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের কদর এখনো রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের মধ্যেও মানুষ আবার প্রকৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে।

 

 

 

নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে কুটির শিল্পের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া অনেক নারী ঘরে বসেই এসব কাজ করে আয় করছেন। এর মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন।

এসময় প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র ও ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য। তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ‘ফাইলের চাকা ঘোরাতে হবে’ অর্থাৎ ফাইল আটকে না রেখে দ্রুত কাজ নিষ্পত্তি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণের বড় একটি অংশ উন্নত বিশ্বের কারণে হলেও উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর ওপর নানা ধরনের শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের দায় ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তব অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বিসিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস নাসের খান ও অতিরিক্ত সচিব নুরুজ্জামান।

আয়োজকরা জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বিসিক ভবনে শুরু হওয়া ‘শরৎমেলা’ চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। মেলায় শতাধিক স্টলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।


   আরও সংবাদ