আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় টানা চার দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে ফ্লাইট চলাচল। এতে ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট বাতিল বা পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
ভোগান্তিতে পড়েছেন ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী। বিমানবন্দর কবে খুলবে, তা নিশ্চিত না হওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প পথে সৌদি আরবে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাসংক্রান্ত এক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় শুধু বাংলাদেশের বিমান নয়, সেখানে চলাচলকারী বিশ্বের সব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নিরাপত্তার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাহত হওয়া ১০টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি করে এবং সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারের তিনটি করে ফ্লাইট রয়েছে। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিকল্প ফ্লাইটে যাত্রী সমন্বয়
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ জানিয়েছেন, রিয়াদগামী যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে দাম্মাম ও মদিনাগামী ফ্লাইটে বিনা খরচে যাত্রী সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, দাম্মাম ও মদিনায় বিমানের ফ্লাইট চলাচল করছে। এসব ফ্লাইটে আসন পাওয়া গেলে যাত্রীদের সেখানে সমন্বয় করা হবে। তবে যাত্রীদের ভিসার মেয়াদ ও অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
রিয়াদগামী অনেক যাত্রীর কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজন এবং ভিসার মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিকল্প ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দর কত দিন বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো জানানো হচ্ছে, রাত ১টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে; আবার কখনো বলা হচ্ছে, পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এভাবে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের কর্মস্থলে পৌঁছানোসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যতটা সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থায় সহায়তা করা হচ্ছে।
ফ্লাইট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী। যাত্রীরা যেন ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা আগেই জানতে পারেন এবং বিমানবন্দরে এসে বাড়তি দুর্ভোগে না পড়েন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিমানের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, টেলিভিশনের স্ক্রল ও কল সেন্টারের মাধ্যমেও যাত্রীদের অবহিত করা হচ্ছে।
ফ্লাইট বন্ধ থাকায় টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া কিংবা অন্য ফ্লাইটে যাওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীরা সমস্যায় পড়ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি বিশ্বব্যাপী একটি সংকট। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হলেও তাদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট পরিচালনা করে যাত্রীদের জীবন বিপন্ন করা যায় না। নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে বিবেচনায় রাখতে হবে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট চালুর বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দাম্মাম ও মদিনার মতো বিকল্প গন্তব্যের মাধ্যমে তাদের সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।