ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার
এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে বাজারে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা করা হলে সরকার তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত করে জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাত বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল নয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে।
তিনি বলেন, এলপিজি সরবরাহের সঙ্গে বেসরকারি খাত সরাসরি জড়িত। তাই বাজারের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকার অপারেটরদের সঙ্গে বসে আলোচনা করছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমন্বয় করা যায় এবং বাজার পরিস্থিতি কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এলপিজির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে মূল্য স্থিতিশীল থাকে এবং ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক সমস্যার মুখে না পড়েন।
তিনি বলেন, এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে এ নিয়ে এটি তৃতীয় বৈঠক। এর আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতেও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবর আবারও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সরবরাহব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং তাদের সরকারের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলপিজি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এটির সরবরাহ নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি করা, জনগণকে জিম্মি করা কিংবা ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিপণনের সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত। সরকার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে।
তিনি বলেন, এলপিজির ডিলার ও বিক্রেতারা তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরের এলপিজি সরবরাহ কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়, সে বিষয়ে কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া কৌশলগুলো প্রকাশ করার সময় এখনো আসেনি।
ডিলার পর্যায়ে ধর্মঘটের হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী এ ধরনের পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কেউ কারসাজি করার চেষ্টা করলে, বাজারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কিংবা হুমকি দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, এলপিজির সঙ্গে দেশের লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত। রান্নাসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজে এ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ফলে এর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না।
সরকার ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের কোনো দাবি বা সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে সরবরাহব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ নিজের স্বার্থে বাজার পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করলে সরকার তা বরদাশত করবে না।
তিনি আরও বলেন, এলপিজির বাজার স্বাভাবিক রাখা এবং সরবরাহ অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকার অপারেটর ও ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে আলোচনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ জনস্বার্থবিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে এলপিজির মূল্য, সরবরাহ, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা এবং একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা।
সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য ধর্মঘটের কারণে বাজারে যাতে সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।