ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল উসকানিদাতা ও মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবি যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে এ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মামলার এজাহার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে গালাগাল করেন মানসিক রোগাক্রান্ত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম।
স্থানীয় এক ব্যক্তি সেই কথাবার্তার অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। অডিওতে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি রয়েছে দাবি করে স্থানীয় ফজলুল হক আমিনী ফেসবুক লাইভ করে ‘তৌহিদী জনতা’কে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর উত্তেজিত জনতা শামীমের বাড়ির গেট ভাঙচুর করে তাকে বাজারে এনে মারধর করে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে তিনি বিষপান করেন। রাতে স্থানীয় কুলিয়া এলাকার এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে তার পাকস্থলী ওয়াশ করানোর পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে ফজলুল হক আমিনী ও তার অনুসারীরা চিকিৎসাধীন শামীমকে ওই চেম্বার থেকে বের করে আবারও গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আমিনীর নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি লোক হাসপাতালে গিয়েও হামলা চালায় এবং চিকিৎসাধীন শামীমকে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয়ের ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়।