ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাত থেকে আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে বিকেলে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে আলিফের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পরে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের বুকে তিনটি গুলির আঘাত ছিল।
এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ছাড়া একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির আঘাত ছিল মাথার ওপরের অংশের চামড়ায় ও ডান কাঁধের পাশে। ক্ষত বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান বলেন, আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন।
আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দুর্গাপুরের তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।
স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।