আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩ বার
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগের কথাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলি এই নেতা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রেডিও নর্থকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের জয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে আমি আমার জয় নিয়ে নিশ্চিত নই এবং এ নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত।’
পরবর্তী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব না।
’
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এসেছে। নির্বাচনে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট ও আবিগদোর লিবারম্যান।
বিরোধী নেতাদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর তাদের নির্ভর করতে হবে বলে দাবি করেছেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু দাবি করেন, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট আরব নেতা মনসুর আব্বাস ও আহমেদ তিবির সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন করতে পারবেন না। তার ভাষ্য, বিরোধীদের আসনসংখ্যার হিসাব বেশি ধরলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে এই দুই নেতার সমর্থন লাগবে।
ভোটারদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, তারা যদি এমন একটি ‘আত্মসমর্পণকারী ও অকার্যকর’ সরকার চান, যা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে শত্রুদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারবে না, তাহলে যেন আইজেনকোটকে ভোট দেন।
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আইজেনকোট কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন না বলেও অভিযোগ করেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, আইজেনকোট আগে বলেছিলেন, পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ইরানকে মেনে নিতে হবে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ওপর হামলা চালানো ভুল ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে আইজেনকোটের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহুর মতে, অস্তিত্বের হুমকির মুখে কোনো আপস না করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান নেওয়া একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জরুরি। তার দাবি, আইজেনকোট ও তার সহযোগীরা সেই ভূমিকা পালনে ব্যর্থ।
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বারের দায়ের করা মানহানির মামলার বিষয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। বারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কিছু নথি অনলাইনেও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মাত্র দুই দিন আগেও রোনেন বার সুবিধার বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি শান্ত রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। নেতানিয়াহুর দাবি, বার শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা বলে আসছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে রোনেন বারের কোনো পাল্টা বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
তথ্যসূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট