ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

দ্রুততম সময়ে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার


দ্রুততম সময়ে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে

শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক।

এ জন্য শ্রমিক নেতাদের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স রুমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড দ্রুত গঠনের বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় সভায় মালিক, শ্রমিক ও সরকারপক্ষ একমত হয়েছে।

মালিকপক্ষ ইতোমধ্যে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করেছে। এখন শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

 

তিনি বলেন, শ্রমিক নেতাদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলা হয়েছে। প্রতিনিধি পাওয়ার পর সরকারি ছুটি না থাকলে পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

 

শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের পর এ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো কারণ থাকার কথা নয়। ত্রিপক্ষীয় সভার আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের মধ্যে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যেসব কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে, সেসব কারখানার শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিস্থিতি জটিল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের বাইরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের বিষয়ে শ্রমিক ও তাদের নেতারা কথা বলবেন, আর মালিকেরা তাদের নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে আলোচনা করবেন। এর বাইরে কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

কারখানাভিত্তিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কারখানার মধ্যেই আলোচনার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো কারখানায় সমস্যা হলে সরকার, মালিকপক্ষের সংগঠন ও শ্রমিক নেতারা সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে প্রয়োজনে দিনরাত আলোচনা করতে প্রস্তুত সরকার।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পকারখানা সচল রাখা জরুরি। শিল্প খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকলে শ্রমিকদের বেতন ও মজুরি নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রয়োজন কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।


   আরও সংবাদ