ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার


অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘটের কারণে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেকে পিকআপসহ বিকল্প যানবাহনে রোগী ও মরদেহ নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমনকি যানবাহন না পেয়ে রোগীদের কোলে করে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনভর ও রাতেও হাসপাতাল চত্বরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ও মরদেহ পরিবহন করা হয়। তবে ধর্মঘটের কারণে মঙ্গলবার হাসপাতাল চত্বরে একটিও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ছিল না।

 

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাংলানিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেলকেন্দ্রিক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

 

পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চান মালিকরা
ধর্মঘটের আগের দিন ২৬ অক্টোবর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে বিশৃঙ্খলভাবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ের নজির নেই। এসব অ্যাম্বুলেন্স যেখানে-সেখানে রাখা হয়। এমনকি রোগীদের জোর করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার ঘটনাও ঘটে। হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফেরাতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির নেতাদের অভিযোগ, চলতি মাসের শুরুতে হাসপাতাল চত্বর থেকে তাদের অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের অফিসও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হলেও সেখান থেকেও গাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়।
.

সমিতির নেতা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, হাসপাতাল চত্বরে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চেয়ে প্রায় এক মাস ধরে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু কোনো সমাধান পাননি। সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখলে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেয়, রেকারও লাগায়। তাই বাধ্য হয়ে ধর্মঘটে যেতে হয়েছে। নতুন ভবনের নিচে নির্ধারিত স্থানে পার্কিংয়ের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব দিতেও তারা প্রস্তুত। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে দুই থেকে তিনটি। এগুলো মূলত ঢাকার মধ্যে রোগী পরিবহন করে। হাসপাতালের নিজস্ব কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি ফোনকলের ভিত্তিতেও এসব অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করা হয়।

প্রতিদিন ৪০-৫০টি মরদেহ পরিবহন
অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বাদল নামে এক ব্যক্তি বলেন, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালকেন্দ্রিক প্রতিদিন ১৩০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী আনা-নেওয়ার কাজে যুক্ত। এসব অ্যাম্বুলেন্সে প্রতিদিন রোগী পরিবহনের পাশাপাশি গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি মরদেহ বহন করা হয়। দেশের এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে এসব বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মরদেহ নিয়ে যায়নি। টাকার বিনিময়ে হলেও মরদেহ পরিবহনে কখনো ‘না’ বলেননি তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৭০০। তবে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতিদিন এখানে চার থেকে সাড়ে চার হাজার রোগী অবস্থান করেন। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে দাবি মালিকদের।

অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে ভোগান্তিতে স্বজনরা
ধর্মঘটের কারণে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বজনরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেকে পিকআপসহ বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মো. শাহীন জানান, তার ৭০ বছর বয়সী দাদি হালিমা বেগম মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে মারা যান। মরদেহ নিয়ে যেতে তিন ঘণ্টার বেশি চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাননি তিনি।

শাহীন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে এসেও এমন বিপদে পড়ব ভাবিনি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সও চোখে পড়েনি। শোকের মধ্যে মরদেহ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

যাত্রাবাড়ীর মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, তার ২২ বছর বয়সী ভাগনে মো. রাসেলকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে আনার পর মঙ্গলবার বিকেলে সে মারা যায়। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে পড়েন তারা।

মনির হোসেন বলেন, ‘এক চিকিৎসক আমাদের ভ্যানে করে মরদেহ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গাড়ি না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসহায়ভাবে বসে থাকতে হয়েছে।’

দুই পক্ষের বিরোধে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্বজনদের।

মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেডিকেলকেন্দ্রিক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির ধর্মঘট তখনো চলছিল। এ ছাড়া যানবাহন না পেয়ে অনেককে রোগীদের কোলে করে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।


   আরও সংবাদ