ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মোসাদ্দেক ঝড়ে বাংলাদেশের ২৮৪

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬ ১৫:২৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


মোসাদ্দেক ঝড়ে বাংলাদেশের ২৮৪

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ ১৫ বছর পর দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমে লড়াকু ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

 

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও পরে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর শতরানের জুটির পর মিডল অর্ডারে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝড়ো ফিফটিতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে বাংলাদেশ।

 

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। ব্যাট হাতে নেমেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন ন্যাথান এলিস। অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান।

ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মার্নাস লাবুশেন। ৬ বলে ৪ রান করে ফেরেন সাইফ।

 

শুরুর ধাক্কার পর ক্রিজে এসে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়তে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম কয়েক ওভারে দেখেশুনে খেললেও পরে হাত খুলতে শুরু করেন দুজন। বিশেষ করে পাওয়ার প্লের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের ওপর চড়াও হন তারা।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে জীবন পান শান্ত। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস বড় করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে দ্রুত রান তোলে বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে জমে ওঠে তামিম-শান্তর জুটি।

দ্বিতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান তারা। দলীয় ১০৬ রানে ভাঙে এই জুটি। ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে আউট হন তানজিদ। ৫৪ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও আত্মবিশ্বাসী শট।

তানজিদের বিদায়ের পর লিটন দাসকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন শান্ত। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন। ম্যাট রেনশর বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ দেন তিনি। মাত্র ৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

অন্য প্রান্তে শান্ত নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে। ওয়ানডেতে দারুণ ধারাবাহিক এই বাঁহাতি ব্যাটার টানা তিন ম্যাচেই বড় ইনিংস খেললেন। দুই ফিফটির সঙ্গে এর আগে একটি শতকও করেছিলেন তিনি। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৮৬ বলে ৬৭ রান করে কুপার কনোলির হাতে ক্যাচ তুলে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

বাংলাদেশ তখন কিছুটা চাপে। সেই পরিস্থিতিতে জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও পরে রান তোলার গতি বাড়ান দুজন। সিঙ্গেল-ডাবলের সঙ্গে ফাঁকা বল পেলেই বাউন্ডারি বের করে আনছিলেন তারা।

৩২তম ওভারে জীবন পান মোসাদ্দেক। তখন তার রান ছিল ২১। রেনশর বলে ক্যাচ তুললেও সেটি তালুবন্দি করতে পারেননি কনোলি। জীবন পাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

৩৪তম ওভারে হৃদয় ও মোসাদ্দেকের জুটিতে আসে ৫০ রান। তবে ব্যক্তিগত ৩১ রানে ন্যাথান এলিসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। তার বিদায়ে জুটি ভাঙলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান মোসাদ্দেক। মাত্র ৪৯ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মোসাদ্দেক। অ্যাডাম জাম্পার এক ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে তুলে নেন ১৬ রান। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই অলরাউন্ডার।

অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। স্কটের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি মিরাজ। মাত্র ৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

ইনিংসের শেষ দিকে তানভির ইসলামও বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। ন্যাথান এলিসের ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন তিনি। লিয়াম স্কট দারুণ ক্যাচ নেন পিছিয়ে গিয়ে। ৭ বলে ৫ রান করেন তানভির।

তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান মোসাদ্দেক। তাকে সঙ্গ দেন তাসকিন আহমেদ৷ এই বাঁহাতি দুই চার ও এক ছয়ে ১৬ বলে ২০ রান করেন। ইনিংসের শেষ বলে তিনি উইকেট হারালেও অপরপ্রান্তে অপরাজিত থেকেই শেষ করেন মোসাদ্দেক। তার ব্যাট থেকে ৭ চার ও ৩ ছয়ে ৭০ বলে ৮৬ রান আসে, যা ওয়ানডেতে তার সর্বোচ্চ ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের ছাপ।


   আরও সংবাদ