ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

২৩ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর স্বপ্ন ডুলির চোখে

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪১ বার


২৩ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর স্বপ্ন ডুলির চোখে

দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর মিশন নিয়ে নতুন কোচের অধীনে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’।

 

আজ ঢাকার শেরাটন হোটেলে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল লোগো উন্মোচিত হয়েছে। পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ‘টেকনো’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আসরের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাফ, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং টেকনোর বৈশ্বিক ও বাংলাদেশ শাখার শীর্ষ কর্মকর্তারা। টেকনো বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জনাব রেজওয়ানুল হক এবং বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম এই বিশাল আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

তারা ফুটবলের বিকাশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

২০০৩ সালের পর আর সাফের শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর দলের দায়িত্ব নেওয়া নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে এটাই বাংলাদেশের প্রথম সাফ মিশন। আজ সংবাদ সম্মেলনে কোচ ডুলি তার লক্ষ্যের কথা স্পষ্ট করেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই, প্রতিপক্ষ জার্মানি, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা হোক বা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের আশেপাশের কোনো দল হোক।’ ২৩ বছর পর শিরোপা জেতার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবকিছুই সম্ভব। আমরা যদি টুর্নামেন্টকে গুরুত্ব সহকারে নিই, তবে ট্রফিটা বাড়িতে নিয়ে আসার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।’

ডুলি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের একটি স্বপ্ন আছে সাফ টুর্নামেন্ট জেতার, আমি মনে করি এখন সময় এসেছে।’ তিনি দর্শকদের মাঠে এসে সমর্থন জোগানোর আহ্বান জানান, যাতে খেলোয়াড়দের ছোটখাটো ভুলে তারা কঠোর না হন।

কোচের এমন লড়াকু মানসিকতায় উজ্জীবিত দলের খেলোয়াড়রাও। তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন বলেন, ‘কোচ সবসময় জিততে চান, এটাই আমাদের সবসময় মোটিভেট করে। ২৩ বছর ধরে আমরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি, তাই এই বিশাল সুযোগ আমরা কোনোভাবেই মিস করতে চাই না। আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হয়ে মাঠে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চাই।’

অন্যদিকে দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন ঘরের মাঠের সুবিধাকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সাফ সবসময়ই কঠিন, তবে আমাদের দেশে খেলা হওয়ায় দর্শকরা মাঠে থাকবে, যা আমাদের বড় দায়িত্বের পাশাপাশি বাড়তি শক্তি জোগাবে। আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে আমরাই সেরা এবং যোগ্য।’

নিজের ভূমিকা নিয়ে তপু বলেন, ‘কোচ অলরেডি বলেছেন আমি ডিফেন্ডার, আমার কাজ গোল সেভ করা। তবে ম্যাচের টাইট সিচুয়েশনে দলের জয়ে অবদান রাখতে প্রয়োজনে আমি গোল করারও চেষ্টা করব।’

নতুন কোচ, নিজেদের চেনা মাঠ এবং খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতা সব মিলিয়ে আগামী নভেম্বরে ঢাকার মাঠে এক নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।


   আরও সংবাদ