আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার
যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগের প্রাদুর্ভাবে প্রথমবারের মতো দুজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ। মাইক্রোস্কোপিক এই পরজীবীজনিত রোগে এটিই যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
সোমবার (৩ আগস্ট) মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস জানায়, মারা যাওয়া দুই ব্যক্তিরই আগে থেকে গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল। তারা অন্ত্রের অসুস্থতা ও পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশনের খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ওয়েড সায়ার্স বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই পরিস্থিতি প্রাদুর্ভাবের উৎস শনাক্ত করা এবং আরও মানুষ যাতে আক্রান্ত না হন, তা প্রতিরোধের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস) জানিয়েছে, তারা মিশিগানের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত রয়েছে।
তবে তদন্তে নতুন কোনো অগ্রগতি নেই বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, সাইক্লোস্পোরিয়াসিস একটি অণুবীক্ষণিক গোলাকার পরজীবী, যা সাধারণত পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া সৃষ্টি করে।
অনেক ক্ষেত্রে ঘন ঘন মলত্যাগের উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত বসন্তের শেষ ভাগ ও গ্রীষ্মকালে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়।
সিডিসির তথ্যমতে, এই পরজীবীর কারণে সৃষ্ট রোগটির নাম সাইক্লোস্পোরিয়াসিস এবং এটি খুব কম ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়। রোগটির অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তীব্র ডায়রিয়া, বমিভাব ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ফাস্টফুড চেইন টাকো বেলে পরিবেশিত মেক্সিকো থেকে আমদানি করা লেটুসকে এ প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য আরও উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সিডিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭০৭। এ ছাড়া আরও ১১ হাজার ৫০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগীর তথ্য নিশ্চিতকরণ বা তদন্তাধীন রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা