ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ অগাস্ট, ২০২৬ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সুকৌশলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এ সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিআরইউ থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমার পরিচিতি বাংলাদেশি, এটা ৭১-এর অর্জন। আমরা তাদের উত্তরসূরি, যারা সীমান্তের যুদ্ধ করেছে।
’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কারা ছোট করার চেষ্টা করছে– এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যারা সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারাই এ কাজ করছে। এদের বীরত্বের কোনো ইতিহাস নাই, শুধু আছে দালালির ইতিহাস।’
জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কৃপা পাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী সবসময় চেষ্টা করে। ৮৬’ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে তারা নির্বাচনে গেছে। ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনে হুমকি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে।’
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে জামায়াতের সুসম্পর্ক গড়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, যে ভারতে প্রতিদিন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক কোটির মতো মুসলমানদের তাড়িয়ে দেবেন বলছেন, যারা ইসরায়েলকে তাদের পিতৃভূমি বলে– তাদের সঙ্গেই জামায়াতে ইসলামী আঁতাত করতে চায়।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রধানের বাসভবনে আয়োজিত একটি চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার কোনো ছবি নেই। অথচ সেখানে ৭ মার্চের শেখ মুজিবের ভাষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এখানেই তাদের উদ্দেশ্য বোঝা যায়।’
এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ছাত্রসংগঠনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ আঁকার সমালোচনা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এর মাধ্যমে ৭১-কে হালকা করে দেখানো হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘একাত্তরের চেতনা আমাদের বুকের মধ্যে ছিল বলেই আমাদের সন্তানেরা ২৪-এ শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে।’
ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘আজ খুবই চক্রান্তমূলকভাবে কোনটা বড়, কোনটা ছোট– তা যাচাই করার চেষ্টা চলছে। এটাতে কোনো লাভ হবে না। এই জাতি নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানে।’
সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি জাহেদুল হক শামীম এবং সহসভাপতি ড. কে এম আই মন্টি প্রমুখ।