ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট, ২০২৬ ১২:১৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার


ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতির মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইকুয়েডরের একটি আদালত মোরেনোর বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন। খবর আল-জাজিরার।

 

৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি তার স্ত্রী, মেয়ে, দুই ভাই, ভাবি এবং ইকুয়েডরে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুকেও একই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ইকুয়েডরের বিতর্কিত ‘কোকা-কোডো সিনক্লেয়ার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে বড় ধরনের ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটে।

২০১৬ সালে চালু হওয়া প্রকল্পটির নির্মাণে যুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনোহাইড্রো’ ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে।

 

তদন্তকারীদের দাবি, সরাসরি অর্থ লেনদেনের পরিবর্তে বিভিন্ন ভুয়া পরামর্শক চুক্তি, বিদেশি ব্যাংক হিসাব এবং করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে নিবন্ধিত ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘুষের অর্থ সরানো হয়েছিল।

 

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মোরেনো ও তার পরিবারের সদস্যরা এই ঘুষের অর্থ থেকে অন্তত ১০ লাখ ডলার পেয়েছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল ক্যাব্রেরা বলেন, মোরেনোর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

মামলায় মোরেনোর স্ত্রী, মেয়ে এবং তার দুই ভাই ও ভাবিকে দুই বছর ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা মোরেনো শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্যারাগুয়ে থেকে দেশে ফিরে আসা সাবেক এই নেতা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

মোরেনোর বক্তব্য, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির চুক্তি বা তদারকির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। একইসঙ্গে প্রসিকিউশন প্রকৃত দায়ীদের বাদ দিয়ে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আদালতের রায়ে তার সেই দাবি আমলে নেওয়া হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনের পথও তার জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


   আরও সংবাদ