ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ অগাস্ট, ২০২৬ ১৫:৪৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার
সরকারি যেকোনো সেবা বা সাহায্য দক্ষতার সঙ্গে পৌঁছাতে এবং দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করতে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সমন্বিত অংশীদারত্ব অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে হোটেল দ্য পেনিনসুলায় এইচএসবিসি ও ব্র্যাক আয়োজিত বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করতে গেলে সঠিকভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে ত্রাণ বা সহায়তা বণ্টন করা প্রয়োজন। কিন্তু অতীতে আমাদের দেশে বণ্টন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
এটা দুর্নীতির মাধ্যমে হয়েছে, অপচয় কিংবা প্রপার ম্যানেজমেন্টের অভাবে হয়েছে। সে কারণে সরকারের প্রতিটি কাজে আমরা সরকার, প্রাইভেট সেক্টর ও এনজিওদের মধ্যে একটি কার্যকর পার্টনারশিপ গড়ে তুলছি।
’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা শুধু বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজে নয়, আমাদের নতুন ক্রিয়েটিভ ইকোনমিক মডেলেও এই পার্টনারশিপ রয়েছে। এতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অবদান নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ বন্যা পুনর্বাসন কর্মকাণ্ডেও সেই অংশীদারত্ব আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘সরকার মূলত ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে জরুরি ত্রাণ সাহায্য দিয়ে থাকে। তবে পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা কিংবা সার্বিক পুনর্বাসনের মতো দীর্ঘমেয়াদি কাজগুলোতে এনজিও ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। সরকারি সম্পদের ব্যবহারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের রিসোর্স অ্যালোকেশন মিলিয়ে এক হয়ে কাজ করলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা উপকৃত হন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনার মধ্যে যখন বেসরকারি খাত ও এনজিওদের রাখা হয়, তখন কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ে এবং দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ হয়ে যায়। চলমান বন্যা ও এর পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, যা একটি বড় সাফল্য।’
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রোগ্রামের সাফল্য তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড ডেলিভারিতে যে পাইলট প্রজেক্ট করা হয়েছিল, সেখানে ভুল বা এরর ছিল মাত্র ১.২ শতাংশ, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত নগণ্য। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনামুক্ত রেখে ও নিরপেক্ষভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।’
এক্ষেত্রে মন্ত্রী গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘মিডিয়া ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করছে, যা পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনে দিচ্ছে এবং অপচয় ও দুর্নীতি রোধে সহায়তা করছে।’
অনুষ্ঠানে পুনর্বাসন উদ্যোগে এগিয়ে আসায় এইচএসবিসি বাংলাদেশ ও ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের প্রকৃত পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এইচএসবিসি ও ব্র্যাক সেই দায়িত্ব হাতে নেওয়ায় আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।’
অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।