ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলায় সংসদে প্রতিবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৭ বার


অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলায় সংসদে প্রতিবাদ

ইতালির ভেনিসে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় ইতালি সরকার ও সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান ও বিচার দাবি করেন।

 

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি হয়তো পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না, কিন্তু এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ কারণে সংসদের বিশেষ ক্ষমতাবলে বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ চাই।

 

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, বাঁধন পরিবারের সদস্য ও ছোট সন্তানকে নিয়ে একটি পার্কে হাঁটছিলেন। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ ও মৌখিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।

তার দিকে কোল্ড ড্রিংকস ও পানি ছুড়ে মারা হয় এবং অত্যন্ত খারাপ ভাষায় কথা বলা হয়। এর পেছনে একমাত্র কারণ— তিনি একজন জুলাই যোদ্ধা এবং গত ২৪ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তিনি সরাসরি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, একজন নারী ও দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন শিল্পীর ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে তাতে মনে হচ্ছে— বাংলাদেশে না থাকলেও পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় তারা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারবে এবং একজন নারীর ওপর হামলা চালাতে পারবে।

হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখন আমরা জানতে চাই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। পরে মন্ত্রীরা এলে এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে বলে জানান জহরত আদিব। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা সংসদ এবং দেশের জনগণ জানতে চায়।

এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কাউকে সংসদে দেখা যাচ্ছে না। তারা এলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হবে।

হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এর মাধ্যমে অপরাধের নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীদের কেউ সংসদে এলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংসদ জানতে চায়, এই জাতি জানতে চায়।


   আরও সংবাদ