স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার
শুরুটা হয়েছিল চরম দুঃস্বপ্ন দিয়ে, তবে শেষটা অন্তত জাল অক্ষত রাখার স্বস্তি নিয়ে। এশিয়ান গেমসে নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী মিয়ানমারকে গোলশূন্য ড্র দিয়ে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
আজ সোমবার জাপানের নাগাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে ১ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের এশিয়াড মিশন শেষ করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
‘এফ’ গ্রুপে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল বিভীষিকাময়।
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়ে যায় দল, যা মেয়েদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হারের রেকর্ড। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তিন দিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ ব্যবধানে হার।
প্রথম দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করে বিধ্বস্ত দলটি যখন খাদের কিনারে, তখন মিয়ানমারের বিপক্ষে এই শেষ ম্যাচটি ছিল মূলত সম্মান বাঁচানোর লড়াই। যদিও সমীকরণের মারপ্যাঁচে এদিন জিততে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার ক্ষীণ একটি সম্ভাবনাও ছিল বাংলাদেশের সামনে।
আজ সোমবার মাঠে নেমে সেই সম্মানটুকু অন্তত বাঁচাতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের চাপে রাখার চেষ্টা করে মিয়ানমার। দ্বিতীয় মিনিটেই পরপর দুটি শট নেয় তারা, যার একটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। ২০ মিনিটে মিয়ানমারের আরেকটি প্রচেষ্টা ব্লক করে দেয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ।
আক্রমণ সামলে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশও। ১৯ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের ফ্রি-কিক এবং ৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে হয়তো গল্পের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই হয়েছে সমানে সমান। তবে শেষদিকে জয়সূচক গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে মিয়ানমার। ৭৭ থেকে ৭৮ মিনিটের মধ্যে তারা বেশ কয়েকটি ভয়ংকর আক্রমণ শাণায়। একের পর এক কর্নার আদায় করে নিলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি তারা।
বাংলাদেশও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছাড়েনি। ৮৬ মিনিটে ঋতুপর্ণার একটি জোরালো শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। এরপর ফিরতি আক্রমণ থেকে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে দল। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
টানা দুই ম্যাচের গোল-বন্যার পর অন্তত নিজেদের জাল অক্ষত রেখে, হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসর থেকে বিদায় নেওয়াটা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য একরকম স্বস্তিরই বটে।