ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৩ বার
স্থানীয় সরকারের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এসব স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসিয়ে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করে উৎপাদন দ্বিগুণ করে মোট ৩০০ মেগাওয়াটে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল স্থাপন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন অফিসসমূহে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা ব্যবহার করবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কাজটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির আওতায় এলজিইডির সদর দপ্তর ও বিভিন্ন কার্যালয়, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং দেশের হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপনে গড়ে ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা খরচ হবে বলে হিসাব করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে এ জন্য প্রতিটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ খাতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য মোট বরাদ্দ ১২০ কোটি টাকা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে অর্থ ছাড় করেছি, প্রত্যেকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে তার দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিত্যক্ত ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা।’
বরাদ্দের বিষয়ে তিনি জানান, সিটি করপোরেশনগুলোকে ৭৫ কোটি, উপজেলা পরিষদকে ৯৯ কোটি, পৌরসভাগুলোকে ৬৪ কোটি এবং জেলা পরিষদকে প্রায় ১২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎপাদিত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের অর্ধেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে। বাকি প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিক্রি করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রির সুযোগ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই হিসেবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ব্যয় করা অর্থ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে বলে হিসাব করা হয়েছে। এরপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি অতিরিক্ত রাজস্বের উৎস হবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্ব আয়ের বিভিন্ন উৎস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাটবাজার, খেয়াঘাট, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ভূমি নিবন্ধন থেকে তারা আয় করে। এসব আয়ের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির আয় যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্ব বাড়বে।
২০ বছরের রক্ষণাবেক্ষণের নিশ্চয়তা
বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকাভুক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ বছরের চুক্তি করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ২০ বছর বিনামূল্যে সার্ভিসিং ও ওয়ারেন্টি দেবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌর প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। কোনো সমস্যা হলে তারাও তা ঠিক করবে। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চয়তা পাবে।
তিনি বলেন, দিনের বেলায় অফিস চলাকালে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে।
হাটবাজারের ছাদেও সৌর প্যানেল
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদ ব্যবহার করেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। হাটবাজার উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আলাদা চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাটবাজার উন্নয়নের অর্থ থেকে সংশ্লিষ্ট হাটের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।