আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৫ বার
টানা ভারী বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি ঠেলে চলাচল করছেন বাসিন্দারা।
ব্যাপক বন্যার মুখে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শহরটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছেন গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপান।
রয়টার্স জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সড়কে গাড়িগুলো আংশিক ডুবে আছে। এর মধ্যেই সপ্তাহান্তে আরও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।
গভর্নর চাদচার্ট বলেছেন, বন্যা মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষ করে খালসংলগ্ন এলাকাগুলোর পরিস্থিতি বেশি খারাপ।
দুর্গতদের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী রান্নাঘর স্থাপনের কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। ব্যাংকক মহানগর প্রশাসনও স্কুলগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করেছে। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
শনিবার জরুরি সতর্কবার্তা দিয়ে খালের কাছাকাছি বসবাসকারীদের মালপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে বলেছে কর্তৃপক্ষ। বন্যার মধ্যে খাবারসহ প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে সুপারমার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন মানুষ।
১৯ বছর বয়সী সানসুক লাওয়াচারাকুল জানান, আগে থেকে খাবার মজুত না করায় তিনি উদ্বিগ্ন। মা-বাবা সঙ্গে নেই, আর এমন পরিস্থিতি আগে কখনো একা সামলাতে হয়নি তাকে।
পানিবেষ্টিত একটি আবাসিক ভবন থেকে লাগেজ নিয়ে বের হচ্ছিলেন ব্যাংককের আরেক বাসিন্দা সুপাকর্ন জুলাভিজিতফং। তিনি জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার আগে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা ভাবেননি।
বন্যার মধ্যেও ব্যাংককের প্রধান সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে যাতায়াতের জন্য ভ্রমণকারীদের হাতে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় রাখতে পরামর্শ দিয়েছে পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজারো বাড়িঘর।